এন্টারটেইনমেন্ট ডেস্ক
ঢাকা: অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাউল সম্রাট লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসকে (১৭ অক্টোবর) ‘ক’ শ্রেণির জাতীয় দিবস হিসেবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) এক ফেসবুক পোস্টে এই ঘোষণাটি দিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা, চলচ্চিত্রকার মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তিনি জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপন এবং ঔপনিবেশিক মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার প্রথম ধাপ।
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী তাঁর দীর্ঘ পোস্টে ব্যাখ্যা করেছেন, কীভাবে ঔপনিবেশিক মানসিকতার কারণে বাংলাদেশের নিজস্ব শক্তিশালী সাংস্কৃতিক ধারাগুলোকে অতীতে ‘ফোক’ (উপ-সংস্কৃতি) বা ‘অপসংস্কৃতি’র তকমা দিয়ে মূলধারা থেকে দূরে রাখা হয়েছে।
তিনি লেখেন, “আধিপত্যবাদের সংস্কৃতির ফ্রেমের সাথে মিলছে না বলে এটাকে (লালনের গান) হাই আর্ট মানতে পারল না আমাদের উপনিবেশিক মন। সহজ সমাধান হিসেবে ট্যাগ দিয়ে দিল ‘ফোক’।” তিনি একইভাবে রক মিউজিককে ‘অপসংস্কৃতি’র তকমা দেওয়ারও সমালোচনা করেন।
ফারুকী বলেন, চব্বিশ পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো, বাংলাদেশের জনগণের চর্চায় আন্তর্জাতিক মানের হয়ে ওঠা নিজস্ব সংস্কৃতিকে উদযাপন করা। তিনি লেখেন, “এর প্রথম ধাপ হিসাবে আজকে ক্যাবিনেটে লালনের তিরোধান দিবসকে ‘ক’ শ্রেণির জাতীয় দিবস হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “লালন উদযাপন করা দিয়ে আমরা রবীন্দ্র-নজরুলের বাইরে তাকাতে শুরু করলাম। এটা কেবল শুরু।”
উপদেষ্টা আরও জানান, আজকের ক্যাবিনেট বৈঠকে চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের জন্মদিনকেও জাতীয় দিবস হিসেবে উদযাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়াও, স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের বড় সাংস্কৃতিক আইকন যেমন হুমায়ূন আহমেদ এবং আইয়ুব বাচ্চুর মতো সমসাময়িক শিল্পীদেরও রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
আইয়ুব বাচ্চুর উদাহরণ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “তাঁর জন্মদিন রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপন করতে মৃত্যুর কত শ’ বছর পর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে?”
বাংলাফ্লো/এইচএম
Like
Dislike
Love
Angry
Sad
Funny
Wow
Comments 0