লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ লিভার ভালো রাখার জন্য আমাদের জীবনযাপনের ধরন স্বাস্থ্যকর হওয়া চাই। সেইসঙ্গে সবচেয়ে বেশি খেয়াল রাখতে হবে প্রতিদিনের খাবারের তালিকার দিকে। আপনি প্রতিদিন কী খাচ্ছেন, তার ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে আপনার লিভারের স্বাস্থ্য কতটা ভালো থাকবে। সুস্থতার জন্য নিয়মিত লিভারের জন্য উপকারী খাবার খাওয়া যেমন জরুরি, তেমনি ক্ষতিকর খাবারগুলো তালিকা থেকে বাদ দেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
লিভার ভালো রাখতে যেসব খাবার খাবেন এবং যেসব খাবার থেকে দূরে থাকবেন:
ওটস প্রচুর ফাইবারযুক্ত খাবার আমাদের লিভারকে সর্বোত্তমভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। এমন একটি খাবার খুঁজছেন যা দিয়ে দিন শুরু করা যায়? তাহলে ওটস খেয়ে দেখতে পারেন। গবেষণায় দেখা গেছে, আপনার লক্ষ্য যদি ওজন কমানো হয়, তবে এটি পেটের মেদসহ ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে। এটি লিভারের বিভিন্ন রোগ দূরে রাখার একটি কার্যকর উপায়।
ব্রোকলি আপনি যদি লিভারকে সুস্থ রাখতে চান, তবে খাদ্যতালিকায় প্রচুর শাক-সবজি যোগ করুন। কিছু গবেষণা থেকে জানা যায় যে, ব্রোকলি মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ (MASLD) থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করতে পারে। এটি মূলত লিভারে চর্বি জমার একটি ক্ষতিকর অবস্থা। তাই নিয়মিত ব্রোকলি খাওয়া লিভারের জন্য ভীষণ উপকারী।
কফি যদি কফি ছাড়া আপনার দিন না চলে, তবে জেনে খুশি হবেন যে এটি আপনার লিভারের জন্য কিছুটা হলেও উপকারী। গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে দুই থেকে তিন কাপ কফি পান করলে তা অতিরিক্ত অ্যালকোহল বা অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে হওয়া ক্ষতি থেকে লিভারকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। কিছু গবেষণা বলছে, এটি লিভার ক্যানসারের ঝুঁকিও কমাতে পারে।
গ্রিন টি গ্রিন টি ক্যাটেচিন নামক এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। এটি লিভার ক্যানসারসহ কিছু ধরনের ক্যানসারের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে পারে। আপনি যদি নিজে চা তৈরি করে গরম গরম পান করেন, তবে বেশি ক্যাটেচিন পাবেন। তবে আইসড টি বা বোতলজাত রেডি-টু-ড্রিঙ্ক গ্রিন টি-তে এর পরিমাণ অনেক কম থাকে। এটি পরিমিত পরিমাণে পান করুন এবং এর কৃত্রিম নির্যাস এড়িয়ে চলুন।
পালং শাক সবুজ পাতায় গ্লুটাথায়ন নামক একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা লিভারকে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। পালং শাক রান্না করাও অত্যন্ত সহজ। এটি রাতের খাবারে রাখতে পারেন কিংবা স্যুপ তৈরি করে খেতে পারেন। এছাড়া রসুন ও অলিভ অয়েল দিয়ে হালকা ভেজে নিলেও এটি খুব সুস্বাদু লাগে।
চর্বিযুক্ত খাবার থেকে দূরে থাকুন লিভারকে সুস্থ রাখার জন্য ফ্রেঞ্চ ফ্রাই এবং বার্গারের মতো ফাস্টফুড থেকে দূরে থাকুন। অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত খাবার খেলে লিভারের কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে এটি প্রদাহের কারণ হতে পারে, যা পরবর্তীতে লিভারে ক্ষত সৃষ্টি করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে ‘সিরোসিস’ বলা হয়।
চিনি খাওয়া কমান অতিরিক্ত মিষ্টি আপনার লিভারের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, লিভারের কাজের একটি অংশ হলো চিনিকে চর্বিতে রূপান্তরিত করা। অতিরিক্ত চিনি খেলে লিভার অতিরিক্ত চর্বি তৈরি করে, যা এমন জায়গায় জমা হতে থাকে যেখানে এর থাকার কথা নয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি MASLD-এর মতো জটিল স্বাস্থ্য অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ









