লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: কাঁচকলা বাঙালির রান্নাঘরের খুব চেনা একটি সবজি। ভর্তা, ভাজি থেকে শুরু করে পাতলা ঝোল—নানা পদে এর ব্যবহার রয়েছে। শুধু রান্নায় নয়, কাঁচকলাকে ঘিরে বাঙালির ঘরোয়া বিশ্বাসও কম নয়। শরীর ফ্যাকাশে দেখালেই বাড়ির বড়রা বলতেন, ‘কাঁচকলা সিদ্ধ খাও, রক্ত বাড়বে।’ কাঁচকলা কাটার পর হাতে যে কষ লেগে কালচে দাগ পড়ে, সেটিকেও অনেকে আয়রনের উপস্থিতির প্রমাণ হিসেবে ভাবেন। কিন্তু কাঁচকলা নিয়ে প্রচলিত এই ধারণাগুলো কি সত্যিই বিজ্ঞানসম্মত?
রক্ত তৈরির সঙ্গে আয়রনের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলে রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে। আর এখানেই কাঁচকলা নিয়ে তৈরি হয়েছে একটি জনপ্রিয় ভুল ধারণা। কাঁচকলা কাটার পর যে কালচে বা বাদামি দাগ দেখা যায়, সেটি মূলত উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান ও বাতাসের সংস্পর্শে হওয়া রাসায়নিক পরিবর্তনের ফল; আয়রন জমে যাওয়ার কারণে এমনটা হয় না।
কাঁচকলায় আয়রন একেবারেই নেই—তা নয়, তবে এর পরিমাণ খুব সামান্য। পুষ্টি-তথ্য অনুযায়ী, ১০০ গ্রাম কাঁচকলায় আনুমানিক মাত্র ০.৩ থেকে ০.৫ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে। ফলে শুধু কাঁচকলা খেয়েই শরীরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আয়রন পাওয়া বা হিমোগ্লোবিন বাড়িয়ে ফেলার ধারণাটি একেবারেই ভুল। আয়রনের ঘাটতি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আয়রনসমৃ্দ্ধ খাবার গ্রহণ করাই শ্রেয়।
রক্ত না বাড়ালেও পেট খারাপ বা ডায়রিয়া নিরাময়ে কাঁচকলা বেশ ভালো কাজ করে। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) একদল গবেষক হাসপাতালে ডায়রিয়ায় ভোগা শিশুদের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন, সাধারণ ওষুধের সঙ্গে কাঁচকলা খাওয়ালে শিশুরা অনেক দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। কাঁচকলায় রয়েছে প্রতিরোধী স্টার্চ বা রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ, যা সহজে হজম হয় না। এটি বৃহদন্ত্রে পৌঁছে অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার জন্য খাদ্য হিসেবে কাজ করতে পারে এবং মলের গঠন ও অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে দারুণ ভূমিকা রাখে।
থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রক্তের রোগ। এই রোগে বারবার রক্ত দেওয়ার প্রয়োজন হলে শরীরে অতিরিক্ত আয়রন জমার ঝুঁকি তৈরি হয়। দীর্ঘদিন এমনটি হলে হৃদ্যন্ত্র, যকৃতসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণেই থ্যালাসেমিয়া রোগীদের আয়রন গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। যেহেতু মানুষের মাঝে ভুল ধারণা রয়েছে যে ‘কাঁচকলা মানেই প্রচুর আয়রন’, তাই অনেক রোগীকে কাঁচকলা খেতে বারণ করা হয়। অথচ কাঁচকলায় আয়রনের পরিমাণ খুবই সামান্য। তবে রোগীর আয়রন জমার মাত্রা ও সামগ্রিক খাদ্যতালিকা বিবেচনা করে এ বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
সব মিলিয়ে কাঁচকলা পেটের জন্য অত্যন্ত উপকারী এবং পুষ্টিকর একটি সবজি। এটিকে রক্ত বাড়ানোর জাদুকরী ওষুধ না ভেবে সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবেই গ্রহণ করা উচিত।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ









