লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: ফ্যাটি লিভার ডিজিজ বেশিরভাগ সময় নীরবে শরীরে বাসা বাঁধে। বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ে লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমলেও এর কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না। তবে লিভারের ক্রমাগত ক্ষতি হতে থাকলে শরীরে কিছু পরিবর্তন বা সতর্ক সংকেত প্রকাশ পায়। গুরুতর জটিলতা তৈরি হওয়ার আগেই এসব সংকেত শনাক্ত করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে যে ৫টি সতর্ক সংকেত কখনোই উপেক্ষা করা উচিত নয়:
১. ক্রমবর্ধমান ক্লান্তি এবং দুর্বলতা: অস্বাভাবিক ক্লান্তি লিভারের সমস্যার অন্যতম প্রধান লক্ষণ হতে পারে। আমেরিকান লিভার ফাউন্ডেশনের মতে, অতিরিক্ত ক্লান্তি হলো মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ (MASLD)-এর একটি বড় সতর্ক সংকেত। লিভারের কার্যকারিতা কমে গেলে সাধারণ বিশ্রামেও ক্লান্তি দূর হয় না। তবে অপর্যাপ্ত ঘুম, রক্তস্বল্পতা বা মানসিক চাপের কারণেও ক্লান্তি আসতে পারে, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
২. পেটের ওপরের ডান অংশে ব্যথা বা অস্বস্তি: লিভার পাঁজরের নিচে, পেটের ওপরের ডান অংশে অবস্থিত। লিভার বড় হয়ে গেলে বা এতে প্রদাহ হলে ওই অংশে অস্বস্তি, চাপ বা হালকা ব্যথা অনুভূত হতে পারে। জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল মেডিসিনে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘস্থায়ী এই অস্বস্তি এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়।
৩. চোখ বা ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিস): ত্বক বা চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়া লিভারের গুরুতর কর্মহীনতার ইঙ্গিত দেয়। লিভার কার্যকরভাবে বিলিরুবিন (লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে সৃষ্ট হলুদ পদার্থ) প্রক্রিয়াজাত করতে ব্যর্থ হলে এই সমস্যা দেখা দেয়। এর সঙ্গে প্রস্রাবের রং গাঢ় বা মল ফ্যাকাশে হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
৪. পা, গোড়ালি বা পেটে ফোলাভাব: লিভারের গুরুতর রোগ শরীরের তরল এবং প্রোটিন নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এর ফলে গোড়ালি ও পায়ে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। পরিস্থিতি আরও জটিল হলে পেটে তরল জমে পেট ফুলে উঠতে পারে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘অ্যাসাইটিস’ বলা হয়।
৫. সহজে কালশিটে পড়া বা রক্তপাত: রক্ত জমাট বাঁধার জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন তৈরিতে লিভার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই প্রোটিন তৈরির ক্ষমতা কমে যায়। ফলে শরীরে সহজে কালশিটে দাগ পড়ে, নাক দিয়ে রক্ত পড়ে বা যেকোনো ক্ষত থেকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় ধরে রক্তপাত হতে পারে।
এই উপসর্গগুলো দেখা দিলেই যে ফ্যাটি লিভার গুরুতর আকার ধারণ করেছে এমনটি নিশ্চিত করে বলা যায় না। তবে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে এগুলো উপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ










