আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র চাপের মুখে অবশেষে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হলেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। অধিকৃত পশ্চিম তীরে দেশটির সরকারের অনুমোদন ছাড়াই জোরপূর্বক গড়ে তোলা অবৈধ বসতিগুলো দ্রুত ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
ফিলিস্তিনিদের ওপর উগ্রপন্থী ইসরাইলিদের নির্যাতন ও সহিংসতা সম্প্রতি চরম আকার ধারণ করেছে। ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর ওপর হামলা চালিয়ে তাদের ভিটেমাটি থেকে তাড়িয়ে দিয়ে জমি দখলের পাশাপাশি সেখানে ছোট ছোট তাবু বা অস্থায়ী ক্যারাভান বসিয়ে বসতি বানানো হচ্ছিল। এর জেরে সম্প্রতি ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি এক ফিলিস্তিনি-আমেরিকান পরিবারের সঙ্গে দেখা করে উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের সরাসরি ‘সন্ত্রাসী’ বলে আখ্যা দেন। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ওয়াশিংটন সাফ জানিয়ে দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের এমন আলটিমেটামের পরেই ব্যাকফুটে চলে যান নেতানিয়াহু। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটের তথ্যমতে, পশ্চিম তীর জুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রায় ১০০টির মতো অবৈধ বসতি বা ‘আউটপোস্ট’ গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। এতদিন সরকারের ভেতরের কট্টরপন্থী মন্ত্রীরা এসব উচ্ছেদ ঠেকাতে তদবির করলেও এবার নেতানিয়াহু কোনো ছাড় দিতে রাজি হননি। প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করলেও অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ মেনে নিয়েছেন যে, সরকার আপাতত ‘এ’ এবং ‘বি’ অঞ্চলে তৈরি হওয়া এসব অবৈধ ঘরবাড়ি সরাতে বাধ্য হচ্ছে।
উচ্ছেদ অভিযান ঠিক কবে শুরু হবে, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়েছে আদালতের রায়েও। একই দিনে ইসরাইলের সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে জালুদ গ্রামের তিনটি ফিলিস্তিনি পরিবারকে তাদের নিজেদের ভিটেমাটিতে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার আদেশ দিয়েছেন, যাদের এতদিন জোর করে তাড়িয়ে রাখা হয়েছিল।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, পশ্চিম তীরে ইসরাইলের শতাধিক স্বীকৃত বসতির পাশাপাশি প্রায় ৩৪০টি অবৈধ ক্যাম্প রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে এসবের পুরোটাই অবৈধ হলেও এতদিন তেল আবিব প্রশাসন চোখের সামনে সব দেখেও না দেখার ভান করে ছিল।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ












