আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ১০ দিন পর নেপালের একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সুড়ঙ্গ থেকে এক চীনা নাগরিককে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) আপার ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ২২৫ মিটার দীর্ঘ একটি সুড়ঙ্গ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ওই চীনা নাগরিকের নাম লু হাইতাও। গত ২৬ আগস্ট ভোতেকোশি এবং এর শাখানদী লেহন্দের একটি ব্যারিয়ার হ্রদ (তুষার, পাথর বা অন্যান্য প্রাকৃতিক বাধার কারণে নদীর প্রবাহ আটকে সৃষ্ট জলাধার) ভেঙে পড়ায় এই ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। এতে নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী রাসুয়া এবং সীমান্তের অপর পাশে তিব্বতের গিরং জেলায় বিস্তীর্ণ এলাকা টনকে টন কাদা, পাথর ও জঞ্জালে ঢেকে যায়। বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়াসহ পার্শ্ববর্তী নুয়াকোট, ধাদিং ও চিৎওয়ান জেলা থেকে গত ১১ দিনে মোট ১ হাজার ৩৪২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রাসুয়া এবং তার আশপাশের এলাকাগুলোতে থাকা কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গপথ বন্যার কাদা ও পাথরে প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। লু হাইতাও হলেন তৃতীয় ব্যক্তি, যাকে কোনো জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হলো। এর আগে শুক্রবার আপার ত্রিশূলী থ্রি-এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে আরও দুজন শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করেছিল নেপালি পুলিশ।
নেপালের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, উদ্ধারের সময় লু হাইতাওকে বেশ ক্লান্ত ও বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল এবং তার শরীর শুকনো কাদা-ধুলায় ঢাকা ছিল। প্রাথমিক পরীক্ষায় তার দেহে কোনো দৃশ্যমান ক্ষত বা হাড়গোড় ভাঙার চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে ১০ দিন ধরে বিধ্বস্ত সুড়ঙ্গে আটকে থাকা, খাদ্য-পানির অভাব এবং ঠান্ডার কারণে তিনি মৃদু হাইপোথার্মিয়ায় ভুগছেন। বর্তমানে তাকে সেনাবাহিনীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ












