জেলা প্রতিনিধি
হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই জাগরণ পদযাত্রা’ শেষে নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অতর্কিত এই হামলা চালিয়েছেন। হামলায় এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং জেলা সদস্য সচিব মাহবুবুর রহমান মুবিনসহ অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে তাদের বহনকারী গাড়িও।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় শহরের থানা মোড় এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ চলে।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে একপর্যায়ে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমসহ অন্যান্য নেতারা স্থানীয় সোনালী ব্যাংক কেন্দ্রীয় শাখার ভেতর গিয়ে আশ্রয় নেন। সেখানে দীর্ঘক্ষণ তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে এবং রাত ৮টার দিকে অবরুদ্ধ নেতাদের নিরাপদে উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়।
হামলার ভয়াবহতার বর্ণনা দিয়ে এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, “আমাদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। কারও হাত ভেঙে গেছে, কারও মাথা ফেটেছে। জেলা সদস্য সচিবকে রড দিয়ে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। একজনের চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, আহতদের যখন হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন হাসপাতালের সামনেই আমাদের ওপর পুনরায় হামলা করা হয়।”
এনসিপি জেলা শাখার আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, এনসিপির ওপর হামলার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন জেলা ছাত্রদল সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন। তিনি বলেন, “শান্তিপূর্ণ হবিগঞ্জ শহরে কেউ যদি এসে অশালীন বক্তব্য দিয়ে শহরকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তবে তার দায়ভার তাকেই নিতে হবে। আমি এই অপ্রীতিকর ঘটনার খবর শুনেছি, তবে এর সঙ্গে ছাত্রদল বা বিএনপির কোনো নেতাকর্মীর নূন্যতম সম্পৃক্ততা নেই। আমরা জেনেছি, কোনো অশালীন বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সাধারণ বিক্ষুব্ধ মানুষজন তাদের ধাওয়া দিয়েছেন।”
এ বিষয়ে জানতে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. জাহিদুল হকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, ‘জুলাই জাগরণ পদযাত্রা ২০২৬’ উপলক্ষে মঙ্গলবার হবিগঞ্জ সফরে আসেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলম। সকালে তারা আজমিরীগঞ্জ উপজেলা সদরে পদযাত্রা ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন। এরপর বিকেল সাড়ে ৫টায় জেলা শহরের সাইফুর রহমান টাউন হলের সামনে আরেকটি সমাবেশের আয়োজন করা হয়। ওই সমাবেশ শেষ করে সন্ধ্যায় সার্কিট হাউসে ফেরার পথেই সদর হাসপাতাল এলাকায় একদল যুবক তাদের ধাওয়া দিলে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ












