আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন মা। এ সময় তিন বছর বয়সী শিশুসন্তানটি অনবরত কান্না করায় আলাপে ব্যাঘাত ঘটছিল। আর সেই চরম বিরক্তি থেকে নিজের জন্ম দেওয়া সন্তানকেই নির্মমভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করলেন রুচি জিন্দাল নামের এক নারী। মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উত্তর প্রদেশের মথুরা জেলার ছৌলি গ্রামে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ২৮ জুন শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন তার পাষণ্ড মা। হত্যার পর তিনি স্বামী কৃষ্ণ মুরারি গুপ্তকে ফোনে ডেকে জানান, তাদের সন্তান দীর্ঘক্ষণ কান্নাকাটি করার পর হঠাৎ নিস্তেজ হয়ে গেছে এবং আর নড়াচড়া করছে না। তড়িঘড়ি করে শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
যেহেতু ওই দিনই শিশুটিকে পোলিওর টিকা দেওয়া হয়েছিল, তাই স্ত্রী রুচির কথা সহজে বিশ্বাস করে নেন স্বামী কৃষ্ণ মুরারি। তিনি ভেবেছিলেন, হয়তো টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেই তার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। এরপর কোনো সন্দেহ ছাড়াই শিশুটিকে সমাহিত করা হয়।
কিন্তু ঘটনার এক মাস পর গত সোমবার (২৭ জুলাই) স্বামী কৃষ্ণ মুরারি হঠাৎ আড়াল থেকে শুনতে পান, স্ত্রী রুচি ফোনে কারও কাছে ওই শিশুটিকে হত্যার কথা স্বীকার করছেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তার ভাই (রুচির দেবর) গোবিন্দ গুপ্ত রুচির মোবাইল ফোন চেক করেন। সেখানে তিনি দেখতে পান, ৩২ বছর বয়সী রুচি জিন্দাল দীর্ঘদিন ধরে এক অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে নিয়মিত ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলছেন। তখনই পুরো হত্যার রহস্যটি পরিবারের সামনে উন্মোচিত হয়।
স্থানীয় বালদেব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অজয় শর্মা জানিয়েছেন, রুচি জিন্দালের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত মানব হত্যার একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
অন্যদিকে পুলিশের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট সঞ্জিব কুমার রায় জানিয়েছেন, হত্যার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের জন্য শিশুটির মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হবে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ










