লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: সুস্থ শরীরের জন্য সঠিক খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শরীরের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ (Inflammation) বা ব্যথা কমাতে কিছু নির্দিষ্ট খাবার দারুণ কার্যকরী। পুষ্টিবিদ দীপশিখা জৈন সম্প্রতি এমন পাঁচটি খাবারের কথা জানিয়েছেন, যেগুলো নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে শরীরের প্রদাহ সহজেই নিয়ন্ত্রণে থাকে।
ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে এই পুষ্টিবিদ প্রদাহরোধী ৫টি খাবারের তালিকা প্রকাশ করেন:
ব্রকলি: ব্রকলি ও অন্যান্য ক্রুসিফেরাস সবজিতে সালফোরাফেন নামের একটি উপাদান রয়েছে। এটি শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে এবং প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।
চিয়া সিড: এই সুপারফুডে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, প্রচুর ফাইবার ও প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড। এসব পুষ্টি উপাদান শরীরের প্রদাহ কমাতে দারুণ সহায়ক।
রাস্পবেরি: রাস্পবেরিতে পলিফেনল ও ফাইবার রয়েছে। পলিফেনলসমৃদ্ধ এই বেরি জাতীয় ফল শরীরের যেকোনো প্রদাহ কমাতে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে।
ডার্ক চকলেট: ডার্ক চকলেটেও রয়েছে উপকারী উপাদান। এতে থাকা কোকোতে প্রচুর ফ্ল্যাভোনয়েড থাকে, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং প্রদাহ কমায়। তবে বেশি কোকো এবং কম চিনিযুক্ত ডার্ক চকলেট বেছে নেওয়া ভালো।
ব্ল্যাক কফি: কফিতে থাকা বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তবে অতিরিক্ত কফি পান না করে পরিমিত গ্রহণ করাই স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
শুধু প্রদাহ কমাতে সহায়ক খাবার খাওয়াই যথেষ্ট নয়; প্রদাহ বাড়াতে পারে এমন খাবারও কমানো জরুরি। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইন জানিয়েছে, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, যেমন—পটেটো চিপস ও ফাস্টফুড নিয়মিত খাওয়া কমানো উচিত। একইভাবে সাদা পাউরুটি, সাদা ভাত ও বিস্কুটের মতো পরিশোধিত খাবারও সীমিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, ভাজা মুরগি ও মোজারেলা স্টিকের মতো ভাজাপোড়া খাবার এবং কোমল পানীয়, অতিরিক্ত চিনি দেওয়া চা ও স্পোর্টস ড্রিংকের মতো মিষ্টি পানীয়ও নিয়মিত গ্রহণ না করাই ভালো। সুষম খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ










