লাইফস্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ফাস্ট ফুড কিংবা অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার পরিহার করে পুষ্টিকর ও ঘরে তৈরি খাবার খাওয়ার পরও অনেকের শরীরের ওজন অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়ে যায়। আপাতদৃষ্টিতে স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করলেই যে শরীরের মেদ দ্রুত ঝরে যাবে, বিষয়টি সবসময় এমন নয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যকর খাবারের ভেতরেও লুকিয়ে থাকতে পারে উচ্চ ক্যালোরি, যার সাথে ব্যক্তির দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, মানসিক স্থিতি এবং শারীরিক অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। মূলত যে সাতটি প্রধান কারণে পুষ্টিকর ডায়েট অনুসরণের পরও ওজন বৃদ্ধি পায়:
প্রথমত, খাবারের সঠিক পরিমাপ বা পোর্শন সাইজ সম্পর্কে অসচেতনতা। বাদাম, বীজ, পিনাট বাটার, অ্যাভোকাডো, পনির কিংবা রান্নার তেলের মতো খাদ্য উপাদান অত্যন্ত পুষ্টিকর হলেও এগুলোতে ক্যালোরির মাত্রা থাকে প্রচুর। সালাদকে স্বাস্থ্যকর ভেবে তাতে অতিরিক্ত বাদাম বা রিচ ড্রেসিং যুক্ত করলে খাবারের মোট ক্যালোরির পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যায়। দ্বিতীয়ত, স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকসের অতিরিক্ত গ্রহণ। গ্রানোলা, প্রোটিন বার, স্মুদি বা ফলের শুকনো টুকরো বারবার খাওয়ার অভ্যাস সারাদিনে বাড়তি ক্যালোরির বোঝা তৈরি করে। তৃতীয়ত, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা। নিয়মিত স্বল্প সময়ের ব্যায়াম করলেও দিনের বাকি সময় যদি দীর্ঘক্ষণ বসে কাটানো হয়, তবে শরীরের সামগ্রিক শক্তির অপচয় কমে যায়।
চতুর্থ কারণ হিসেবে চিকিৎসকরা অপর্যাপ্ত ঘুমকে দায়ী করেছেন। ঘুমের ঘাটতি দেখা দিলে শরীরে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবারের তীব্র আকাঙ্ক্ষা জন্ম নেয়। পঞ্চম কারণ দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ বা স্ট্রেস, যা খাওয়ার আচরণে বিশৃঙ্খলা আনে এবং ক্লান্তি বাড়ায়। ষষ্ঠত, থাইরয়েডের নিষ্ক্রিয়তা, পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS/PMOS) কিংবা কিছু অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ও স্টেরয়েড ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় শরীরে ওজন বাড়তে পারে। সর্বশেষ বিষয়টি হলো ওজন মাপার যন্ত্রের বিভ্রান্তি; শরীরে পানির পরিমাণ বৃদ্ধি, হরমোনের ওঠানামা কিংবা স্ট্রেন্থ ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে পেশির ঘনত্ব বাড়লেও ওজনের কাঁটা বেড়ে যেতে পারে। তাই কেবল ওজনের সংখ্যার ওপর নির্ভর না করে সামগ্রিক শারীরিক সুস্থতা ও জীবনযাত্রার মানে নজর দেওয়াই শ্রেয়।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ











