লাইফস্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: মাত্র কিছুক্ষণ আগেই তৃপ্তি সহকারে খাবার সম্পন্ন করেছেন, অথচ ঘণ্টা না পেরোতেই পুনরায় পেটে তীব্র ক্ষুধার অনুভূতি—এমন বিড়ম্বনার মুখোমুখি হন অনেকেই। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিষয়টিকে খাবারের অপর্যাপ্ততা মনে করা হলেও পুষ্টিবিদরা বলছেন, খাবার গ্রহণের পরপরই আবার ক্ষুধা লাগার পেছনে মূলত খাদ্যের গুণগত সংমিশ্রণ, শারীরিক অভ্যাস এবং কিছু জৈবিক কারণ দায়ী থাকে। সঠিক পুষ্টি উপাদানের অভাব ঘটলে পেট সাময়িকভাবে ভরলেও মস্তিষ্কে দীর্ঘস্থায়ী তৃপ্তির সংকেত পৌঁছায় না।
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিনের ঘাটতি থাকলে দ্রুত ক্ষুধা অনুভূত হয়; কারণ শুধু ভাত বা রুটির মতো কার্বোহাইড্রেট দীর্ঘক্ষণ শক্তি ধরে রাখতে পারে না। খাবারে মাছ, মাংস, ডিম বা ডালের মতো প্রোটিনের সংযুক্তি দীর্ঘ তৃপ্তি দেয়। দ্বিতীয়ত, ফাইবারের অভাব থাকলে হজম দ্রুত হয়ে পেট খালি হয়ে যায়। এছাড়া সাদা পাউরুটি, বিস্কুট বা ময়দাযুক্ত অতিরিক্ত পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট খেলে রক্তে গ্লুকোজের আকস্মিক ওঠানামার ফলে একটু পরই প্রচণ্ড ক্ষুধার তাড়না দেখা দেয়। দ্রুত খাবার খাওয়ার বদভ্যাসও অন্যতম একটি কারণ; পেট যে ভরেছে তা মস্তিষ্কে সংকেত পাঠাতে শরীরের প্রায় বিশ মিনিট সময় লাগে। অনেক সময় শরীরে পানির ঘাটতি বা ডিহাইড্রেশনকেও মস্তিষ্ক ক্ষুধার অনুভূতি হিসেবে ভুল করে। অন্যদিকে অপর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক ক্লান্তি ক্ষুধা বাড়ানো হরমোনকে অতিরিক্ত সক্রিয় করে তোলে।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষুধা প্রতিরোধে পুষ্টিবিদরা কার্বোহাইড্রেট সম্পূর্ণ বাদ না দিয়ে খাবারের থালায় প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও আঁশযুক্ত শাকসবজির সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখার পরামর্শ দেন। খাবার চিবিয়ে ধীরে ধীরে খাওয়ার অভ্যাস করা, সারাদিন পর্যাপ্ত জলপান নিশ্চিত করা এবং পর্যাপ্ত ঘুমানো অত্যন্ত জরুরি। তবে খাদ্য তালিকায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান থাকার পরেও যদি ঘন ঘন অস্বাভাবিক ক্ষুধার উদ্রেক হতে থাকে, তবে চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে ডায়াবেটিস বা মেটাবলিক কোনো জটিলতা আছে কি না তা পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ











