লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: নিয়মিত নামীদামি প্রসাধন সামগ্রী পরিবর্তন কিংবা প্রাত্যহিক রূপচর্চার পরও ত্বকের অস্বস্তিকর র্যাশ, অ্যালার্জি ও দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ কিছুতেই কমছে না? চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল জীবনযাত্রার ভুলভ্রান্তি নয়—ত্বকের এই জটিল সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ দূষণ। মানবদেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ ও বাইরের পরিবেশের মধ্যকার প্রথম সুরক্ষাবলয় হিসেবে সরাসরি কাজ করে ত্বক। ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বায়ুর অতিরিক্ত আর্দ্রতা এবং সূর্যালোকের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সংবেদনশীল এই অঙ্গটি।
ইউরোপিয়ান অ্যাকাডেমি অব ডার্মাটোলজি অ্যান্ড ভেনেরিওলজি (EADV) কংগ্রেস ২০২৬-এ উপস্থাপিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় বিশ্বের ১৩৬টি দেশের চিকিৎসকদের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চাঞ্চল্যকর যোগসূত্র পাওয়া গেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার ৫৮টি দেশের মধ্যে প্রায় ৮১ শতাংশ দেশেই উদ্বেগজনক হারে হিট র্যাশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ৭৫.৯ শতাংশ দেশে ত্বকের প্রদাহজনিত জটিলতা বেড়েছে। পরিবেশবিদদের মতে, অস্বাভাবিক তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার কারণে শরীর অতিরিক্ত ঘেমে যায় এবং বায়ুদূষণের বিষাক্ত কণা ত্বকে জমে তীব্র প্রদাহ সৃষ্টি করে। এছাড়া বৈরী আবহাওয়ার কারণে মশা ও বিভিন্ন কীটপতঙ্গের বিস্তার বেড়ে যাওয়ায় সংক্রামক চর্মরোগ দ্রুত ছড়াচ্ছে।
গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, জলবায়ু সংকটের এই ক্ষতিকর প্রভাব দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অনেক বেশি। গবেষণায় অংশ নেওয়া নিম্ন আয়ের দেশগুলোর ৫৫.৬ শতাংশ এবং নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর ৫২.৫ শতাংশ ত্বকজনিত ব্যাধি বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে; বিপরীতে ধনী দেশগুলোতে এই হার মাত্র ২৮.৩ শতাংশ। গবেষকরা পরামর্শ দিয়েছেন, ত্বকের এই স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে তীব্র রোদে বের হলে সরাসরি সূর্যালোক ও ধুলোবালি এড়িয়ে চলা, ছাতা বা সানস্ক্রিন ব্যবহার করা, প্রচুর পরিমাণে পানি ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সম্মিলিত সচেতনতা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ









