লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: পুষ্টির অন্যতম সেরা উৎস হিসেবে ডিমের জুড়ি মেলা ভার। উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন (এ, ডি, বি১২) এবং সেলেনিয়াম ও জিংকের মতো খনিজ উপাদানে ঠাসা এই খাবারটি পেশি গঠনে দারুণ কার্যকরী। এছাড়া পেট ভরতি রাখার পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণেও ডিমের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কিন্তু প্রবাদে আছে না, ‘অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো নয়’? ডিমের ক্ষেত্রেও কথাটি শতভাগ সত্যি। পুষ্টিগুণে ভরপুর হলেও মাত্রাতিরিক্ত ডিম খাওয়া আপনার শরীরে নানা জটিলতা, বিশেষ করে হজমের গোলমাল ডেকে আনতে পারে। তাই খাওয়ার পরিমাণ আর রান্নার ধরন—দুটোর দিকেই নজর দেওয়া জরুরি।
হজমতন্ত্রের ওপর কীভাবে চাপ ফেলে অতিরিক্ত ডিম?
ডিমে প্রাকৃতিকভাবেই প্রোটিনের মাত্রা বেশ চড়া থাকে। তাই আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় যদি শাকসবজি, ফলমূল বা আঁশযুক্ত খাবারের ঘাটতি থাকে এবং আপনি প্রোটিনের জন্য অতিরিক্ত ডিমের ওপর নির্ভরশীল হন, তবে পাকস্থলীর ওপর বাড়তি চাপ পড়তে বাধ্য। এর ফলে গ্যাস, অ্যাসিডিটি, পেট ফাঁপা কিংবা খাওয়ার পর অস্বস্তিকর ভারী অনুভূতি হতে পারে।
এছাড়া অনেকের অজান্তেই ডিমে মৃদু অ্যালার্জি থাকে। তারা বেশি ডিম খেলে বমি বমি ভাব বা পেটে তীব্র অস্বস্তি বোধ করতে পারেন। এমন উপসর্গ দেখা দিলে সাময়িকভাবে ডিম খাওয়া কমিয়ে দিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
মাত্রাতিরিক্ত ডিম খাওয়ার অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি
হজমে অস্বস্তি: যাদের হজমতন্ত্র কিছুটা সংবেদনশীল, অতিরিক্ত ডিম তাদের পেট ফাঁপা বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যাকে আরও উসকে দিতে পারে।
অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন: বমি ভাব থেকে শুরু করে ত্বকে র্যাশ বা হালকা জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
পুষ্টির ভারসাম্যহীনতা: প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে শুধু ডিমের ওপর ভরসা করলে শরীরে অন্যান্য জরুরি পুষ্টি উপাদানের বৈচিত্র্য কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
কোলেস্টেরল ও হৃদরোগের শঙ্কা: যাদের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি বা হার্টের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য মাত্রাতিরিক্ত ডিম ক্ষতিকর হতে পারে।
ভুল রান্নায় বাড়ে ফ্যাট: অতিরিক্ত মাখন, চিজ কিংবা প্রক্রিয়াজাত মাংস দিয়ে ডিম রান্না করলে তাতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা ক্ষতিকর চর্বির পরিমাণ বিপজ্জনক হারে বেড়ে যায়।
দিনে কয়টি ডিম খাওয়া আসলে নিরাপদ?
আপনার বয়স, শারীরিক পরিশ্রমের মাত্রা, জীবনযাপন পদ্ধতি ও পুরনো কোনো রোগের ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করেই ডিম খাওয়ার আদর্শ পরিমাণ নির্ধারিত হয়। পুষ্টিবিদদের মতে, একজন সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে সপ্তাহে ৩ থেকে ৪ দিন অনায়াসেই প্রতিদিন একটি করে ডিম খেতে পারেন।
অন্যদিকে, বাড়ন্ত শিশুদের শারীরিক গঠন ও মানসিক বিকাশের জন্য প্রতিদিন একটি ডিম বেশ উপকারী। তবে যাদের হার্টের সমস্যা বা উচ্চ কোলেস্টেরল রয়েছে, তাদের ডিম খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিমিতিবোধ বজায় রাখতে হবে। মনে রাখবেন, কেবল একটি নির্দিষ্ট খাবার নয়; ফলমূল, শস্যদানা আর শাকসবজির সমন্বয়ে গড়া সুষম ডায়েটই সার্বিক সুস্থতার মূল চাবিকাঠি।
পুষ্টি অটুট রাখতে রান্নার স্বাস্থ্যকর উপায়
ডিম খাচ্ছেন ভালো কথা, কিন্তু সেটি কীভাবে রান্না করছেন, তা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত তেল, মাখন, ক্রিম বা চিজ দিয়ে রান্না করলে ডিম হয়ে ওঠে গুরুপাক, যা হজম করা শরীরের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এর বদলে ডিম সেদ্ধ, পোচ বা নামমাত্র তেলে হালকা করে স্ক্র্যাম্বল (Scramble) করে খেলে এর পুষ্টিগুণ যেমন অটুট থাকে, তেমনি তা সহজে হজমও হয়।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






