লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: ধোঁয়া ওঠা গরম মোমো আর তার সঙ্গে ঝাল চাটনি—নাম শুনলেই জিভে জল আসে না, এমন ভোজনরসিক মেলা ভার। বিশ্বজুড়ে তুমুল জনপ্রিয় এই খাবারটির জন্য একটি শহরকে ‘বিশ্বের মোমো রাজধানী’ বলা হয়। আর সেই অনন্য শহরটি হলো হিমালয়কন্যার দেশ নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ডু। মোমোর প্রতি স্থানীয়দের প্রবল আবেগ এবং এর পেছনের সুদীর্ঘ ঐতিহ্যের স্বীকৃতিস্বরূপ এই তকমা পেয়েছে শহরটি।
স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের মোমোর চাহিদা মেটাতে শহরটিতে রয়েছে হাজার হাজার দোকান ও রেস্তোরাঁ। পরিসংখ্যান বলছে, কেবল কাঠমাণ্ডু শহরেই ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৮ হাজার মোমোর স্টল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।
তিব্বত থেকে নেপালে আগমন মোমোর আদি জন্মস্থান মূলত তিব্বতে। তবে তিব্বতের সঙ্গে কাঠমাণ্ডুর শত শত বছরের পুরোনো বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের হাত ধরে এই খাবার নেপালে প্রবেশ করে। এরপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নেপালিরা নিজেদের মতো করে এতে দেশীয় নানা মসলা, বৈচিত্র্যময় পুর ও বিশেষ চাটনি যুক্ত করে। এভাবেই মোমো নেপালের নিজস্ব এক খাদ্যসংস্কৃতিতে পাকাপোক্ত জায়গা করে নেয়।
কাঠমাণ্ডুর মোমোর বৈচিত্র্য কাঠমাণ্ডুর মোমোর বিশ্বজোড়া খ্যাতির অন্যতম কারণ হলো এর অভাবনীয় স্বাদ ও বৈচিত্র্য। সেখানে গেলে হরেক রকমের মোমোর দেখা মেলে:
স্টিমড মোমো: এটি মূলত ভাপে সেদ্ধ করা ক্লাসিক বা সাধারণ মোমো, যা ঝাল চাটনির সঙ্গে পরিবেশন করা হয়।
ঝোল মোমো: মশলাদার ও সুস্বাদু এক ধরনের গরম ঝোলের মধ্যে ডুবিয়ে এই মোমো খাওয়া হয়।
চিলি মোমো: পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ ও কড়া ঝাল সস দিয়ে বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয় এটি।
কোথে মোমো: এর বিশেষত্ব হলো মোমোর এক পাশ প্যানে ভাজা থাকে, ফলে বাইরে মচমচে ও ভেতরে বেশ নরম অনুভূতি পাওয়া যায়।
ফ্রায়েড মোমো: ডুবো তেলে কড়া করে ভাজা এই মোমো দারুণ মচমচে হয়ে থাকে।
ওপেন মোমো: এটি মোমোর একটি আধুনিক রূপ, যার ওপরের অংশ খোলা থাকে এবং ভেতরে নানা উপকরণ ও মুখরোচক সস দিয়ে সাজানো হয়।
কাঠমাণ্ডুর সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ মোমো এখন আর কেবল একটি সাধারণ খাবার নয়, বরং এটি কাঠমাণ্ডুর নিজস্ব পরিচয়ের এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। শহরের যেকোনো খাদ্য উৎসব, রেস্তোরাঁর মেন্যু কিংবা ঘরোয়া আয়োজনে মোমোর উপস্থিতি একেবারেই বাধ্যতামূলক। পর্যটকদের কাছেও কাঠমাণ্ডু সফরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো এখানকার খাঁটি মোমোর স্বাদ গ্রহণ করা। তাই বলা যায়, প্রাচীন ঐতিহ্য ও আধুনিক স্বাদের মেলবন্ধনে কাঠমাণ্ডু হয়ে উঠেছে মোমোপ্রেমীদের জন্য পৃথিবীর সেরা এক তীর্থস্থান।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ












