আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি চুক্তির (১৯৯৬) মেয়াদ শেষ হতে আর এক বছরেরও কম সময় বাকি। অথচ এখন পর্যন্ত চুক্তি নবায়ন নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা শুরু না হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতের লোকসভার পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটি।
সম্প্রতি সংসদে পেশ করা পঞ্চদশ ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’-এ বিরোধী দল কংগ্রেসের এমপি শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন এই প্যানেলটি কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে। তারা বলেছে, সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে; চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে আলোচনা শুরু না হলে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন করে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
পানি বণ্টন কেবল কারিগরি বিষয় নয়, বরং এটি দুই দেশের কোটি কোটি মানুষের কৃষি, জীবিকা ও সুপেয় পানির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। একই সঙ্গে বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্যের রাজনীতিতেও এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। মেয়াদ শেষের আগে নতুন চুক্তি চূড়ান্ত না হলে পারস্পরিক বিশ্বাসে ফাটল ধরতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কমিটি। বিশেষ করে বাংলাদেশে যখন একটি নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে এবং দুই দেশই কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারে সচেষ্ট, তখন কালক্ষেপণ নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এর আগে ২০২৬ সালে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আলোচনা শুরুর সুপারিশ করেছিল কমিটি। পাশাপাশি হালনাগাদ জলবায়ু উপাত্ত ও হাইড্রোলোজিক্যাল ডেটা বিশ্লেষণ এবং পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের সঙ্গে পরামর্শ করে নিজস্ব দরকষাকষির কৌশল প্রস্তুত করতে সরকারকে তাগিদ দেওয়া হয়েছিল। এর জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে গঠিত একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি চুক্তির অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা করছে এবং বাংলাদেশের নতুন সরকারের অধীনে শিগগিরই আলোচনা শুরু হবে।
তবে এমন জবাবে মোটেও সন্তুষ্ট হয়নি সংসদীয় কমিটি। প্যানেলটি জানায়, তিন বছর ধরে প্রস্তুতিমূলক কাজ চললেও অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা শেষ হয়েছে কি না বা ভারতের প্রস্তাবিত কাঠামো কী হবে—তার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য মন্ত্রণালয় দিতে পারেনি। এছাড়া দীর্ঘস্থায়ী তিস্তা চুক্তি নিয়েও কোনো অগ্রগতি না থাকায় হতাশা প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে মজবুত করার সুযোগ থাকলেও অভিন্ন নদীর পানি ভাগাভাগির মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে দীর্ঘসূত্রতা পুরো কূটনৈতিক সম্পর্ককেই জটিল করে তুলতে পারে।
সংসদীয় কমিটির দেওয়া ৩৩টি সুপারিশের মধ্যে সরকার ২৫টি গ্রহণ করলেও গঙ্গা চুক্তি ও নদী সহযোগিতা সংক্রান্ত বাকি আটটি বিষয়ে এখনও পূর্ণাঙ্গ জবাব মেলেনি। প্যানেলটি স্পষ্ট জানিয়েছে, ভারত আর কেবল প্রথাগত বৈঠকের ওপর ভরসা করতে পারে না। অর্থপূর্ণ আলোচনার সুযোগ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে; আর কালক্ষেপণ করা হলে তার নেতিবাচক প্রভাব সার্বিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎকেই ঝুঁকির মুখে ফেলবে। (তথ্যসূত্র: সাউথ এশিয়ান হেরাল্ড)
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ










