বাংলাফ্লো প্রতিবেদক
ঢাকা: ব্যবসায়ী ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের গ্যাস সরবরাহের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের পর ইতিমধ্যে শিল্প খাতে গ্যাসের সরবরাহ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন। শিল্পকারখানা সচল রেখে দেশের অগ্রগতি অব্যাহত রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. মাহদী আমিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি দেশের প্রধান ব্যবসা ও শিল্প সংগঠনের শীর্ষ ২১ নেতা ও গণমাধ্যমের একাংশের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। সেখানে তিনি গ্যাস সরবরাহ সংকট কাটিয়ে পরিস্থিতি দ্রুততম সময়ে স্বাভাবিক করার সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। অত্যন্ত স্বল্প সময়ে প্রধানমন্ত্রীর সেই আশ্বাস বাস্তবায়িত হতে শুরু করেছে এবং গ্যাসের সরবরাহ অনেকটাই বেড়েছে। আগামী দিনেও এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে।”
বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ এখন বিশ্বের একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, দেশের মূল্যস্ফীতি ইতিবাচক ধারায় যাচ্ছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমেছে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে ডিজেলের দামও এখন কম।
সরকারের বিভিন্ন অর্জন ও পরিকল্পনার চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা জানান:
ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
কক্সবাজারে ‘ব্লু ইকোনমি’ বা সুনীল অর্থনীতি নিয়ে গবেষণার জন্য একটি বিশেষায়িত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কওমি ও আলিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিতে দুপুরের খাবার (মিড-ডে মিল) দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, যা প্রাথমিকভাবে ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত চলবে।
দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাদবাগান কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
ড. মাহদী আমিন জানান, সরকারি আর্থিক সুবিধার ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ২০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকার পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এছাড়া সম্পত্তির উত্তরাধিকার আইনও প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রান্তিক পর্যায়ে সেবা পৌঁছে দিতে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে সরকারি প্রাণিচিকিৎসক নিয়োগ এবং রাজধানীর কারওয়ান বাজারের পাইকারি হাট গাবতলীতে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, গত এক মাস ধরে সরকারের যে বহুমুখী কল্যাণকর কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা কেবল নির্দিষ্ট সময়সীমার সাফল্য নয়; বরং এটি একটি সমৃদ্ধ মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার। প্রথাগত শাসনপদ্ধতির বেড়াজাল ভেঙে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া, আইনের অনুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর দায়বদ্ধতা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও প্রশংসিত হচ্ছে।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ












