আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডসে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিয়েছেন লন্ডনের মেয়র স্যার সাদিক খান। এই শপথের মাধ্যমে তিনি ‘লর্ড খান অব টুটিং’ উপাধি পেলেন। এখন থেকে উচ্চকক্ষ থেকেও লন্ডনের স্বার্থে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
বর্তমানে লন্ডনের মেয়র হিসেবে তৃতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছেন সাদিক খান। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পরিবারের সদস্য ও কয়েকজন লেবার এমপির উপস্থিতিতে তিনি এই ঐতিহ্যবাহী শপথ গ্রহণ করেন। একই দিন লেবার পার্টির আরেক নতুন সদস্য লর্ড রবার্তো নেরিও শপথ নেন।
লন্ডনের টুটিং এলাকায় সাদিক খানের জন্ম এবং সেখান থেকেই তিনি টানা ১১ বছর এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার সেই টুটিংয়েরই ‘লর্ড’ বা ‘পিয়ার’ হলেন তিনি। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি মানবাধিকার আইন নিয়ে কাজ করতেন। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের সরকারে মন্ত্রী ও পরিবহন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন।
২০১৬ সালে প্রথম লন্ডনের মেয়র নির্বাচিত হন সাদিক খান। ২০০০ সালে বর্তমান মেয়র ব্যবস্থা চালুর পর থেকে তিনিই সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে এই পদে আছেন। লন্ডনের প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে করোনা মহামারি ও সন্ত্রাসী হামলার মতো কঠিন সময়ে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। গত বছর তিনি মর্যাদাপূর্ণ ‘নাইট’ উপাধিও পেয়েছিলেন।
‘পিয়ার’ উপাধি পাওয়াকে নিজের জন্য বড় সম্মান হিসেবে দেখছেন সাদিক খান। তিনি বলেন, এই দেশ ও রাজধানী তাকে সাধারণ এক জীবন থেকে লন্ডনের মেয়র হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। মেয়র থাকাকালীন প্রাথমিক স্কুলের সব শিশুর জন্য বিনামূল্যে খাবার নিশ্চিত করা, শহরের বাতাস পরিষ্কার করা, গণপরিবহন উন্নত করা এবং তরুণদের জন্য সুযোগ তৈরির মতো কাজগুলোর কথা তুলে ধরেন তিনি। সবার জন্য একটি সুন্দর, নিরাপদ ও সবুজ শহর গড়ার কাজ তিনি চালিয়ে যাবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন।
হাউস অব লর্ডসের সদস্য হলেও নিয়মের কারণে সাদিক খানকে লন্ডনের মেয়রের পদ ছাড়তে হচ্ছে না। তিনি একই সঙ্গে মেয়র ও লর্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। তার বর্তমান মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত চলবে। তবে চতুর্থ মেয়াদেও তিনি এই পদে লড়বেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানাননি।
অতীতে হাউস অব লর্ডস প্রথা তুলে দেওয়ার পক্ষে কথা বললেও এখন নিজেই এই পদে আসীন হওয়ায় বিরোধীদের সমালোচনার মুখে পড়েছেন সাদিক খান। তা সত্ত্বেও, ব্রিটিশ রাজনীতিতে নিজের প্রভাব ধরে রাখতে এই উপাধি তাকে দারুণ এক সুযোগ করে দিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ









