লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: এমন অনেক সময় আসে যখন ক্লান্তি বোধ করাটা অস্বাভাবিক নয়। নিদ্রাহীন রাত, ব্যস্ত সপ্তাহ কিংবা পরিবারের অতিরিক্ত যত্ন নেওয়া যে কাউকেই পরিশ্রান্ত করে তুলতে পারে। কিন্তু ক্লান্তি যদি প্রতিদিনের সঙ্গী হয়ে ওঠে? যদি আট ঘণ্টার ঘুমকেও চার ঘণ্টার মতো মনে হয়? কিংবা এক কাপ কফি পানের এক ঘণ্টা পরই যদি আবার ঝিমুনি ফিরে আসে? অনেকেই এসব লক্ষণকে বয়স বৃদ্ধি বা নিছক মানসিক চাপ বলে উড়িয়ে দেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যাপ্ত বিশ্রাম সত্ত্বেও ক্রমাগত ক্লান্ত বোধ করার পেছনের কারণ হতে পারে ‘কোষীয় ক্লান্তি’ (Cellular Fatigue)।
কী এই কোষীয় ক্লান্তি? আমাদের শরীরের শক্তি মূলত কোষের ভেতরের ‘মাইটোকন্ড্রিয়া’ নামক ক্ষুদ্র কাঠামোর মধ্যে উৎপন্ন হয়, যাকে বলা হয় কোষের শক্তিকেন্দ্র বা পাওয়ার হাউস। যখন এই মাইটোকন্ড্রিয়াগুলো দক্ষতার সঙ্গে কাজ না করে, তখন কোষগুলো শরীরের স্বাভাবিক কার্যকলাপের জন্য পর্যাপ্ত শক্তি তৈরি করতে হিমশিম খায়। এই অবস্থাকেই বলা হয় কোষীয় ক্লান্তি। অর্থাৎ, আপনার শরীরের কোষগুলো দৈনন্দিন কার্যকলাপ চালানোর জন্য যখন পর্যাপ্ত শক্তি উৎপাদন করতে পারে না, তখনই এই ক্লান্তি দেখা দেয়।
কেন হয় এমনটা? এটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অস্বাস্থ্যকর মাইটোকন্ড্রিয়ার কারণে ঘটে। এর পেছনে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, অনিদ্রা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক কার্যকলাপের অভাব এবং বার্ধক্যের মতো কারণগুলো দায়ী।
মানসিক চাপ: দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ স্ট্রেস হরমোন বাড়িয়ে দেয়, যা ঘুম ও স্বাভাবিক কোষীয় কার্যকলাপে বাধা সৃষ্টি করে। শরীর নিজেকে মেরামত করার চেয়ে মানসিক চাপের প্রতিক্রিয়া জানাতেই বেশি শক্তি ব্যয় করে ফেলে।
অপর্যাপ্ত ঘুম: ঘুম শুধু বিশ্রাম নয়; এ সময়ে শরীর তার কলা মেরামত করে এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা পুনরুদ্ধার করে। নিম্নমানের ঘুমের কারণে কোষের মেরামত প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে পড়ে।
অলস জীবনযাপন: দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা বা শারীরিক কার্যকলাপের অভাব শরীরের কার্যক্ষমতাকে ধীর করে দেয় এবং শারীরিক সহনশীলতা কমিয়ে দেয়।
লক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি কোষীয় ক্লান্তির লক্ষণগুলো প্রকট হওয়ার আগে অত্যন্ত সূক্ষ্ম থাকে। দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তিতে ভোগা অনেকেই মনে করেন যে তাদের কেবল একটা লম্বা ছুটি বা আরেক কাপ কফি প্রয়োজন। কিন্তু কোষীয় ক্লান্তি নীরবে তৈরি হয়। এর ফলে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, মনোযোগের অভাব, দুর্বলতা এবং কোনো অসুস্থতা থেকে ধীরে ধীরে সেরে ওঠার মতো লক্ষণ দেখা যায়।
ক্রমাগত শক্তি কমে যাওয়া মানে কেবল ঘুম ঘুম ভাব নয়। কোষীয় ক্লান্তি ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ক্রনিক ফ্যাটিগ সিনড্রোম, নিউরোডিজেনারেটিভ ডিসঅর্ডার, অটোইমিউন রোগ, বিষণ্ণতা এবং দ্রুত বার্ধক্য প্রক্রিয়ার মতো ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তবে ক্লান্তি থাকলেই যে কেউ বড় কোনো রোগে আক্রান্ত হবেন, তা নয়। রক্তস্বল্পতা, থাইরয়েডের সমস্যা, সংক্রমণ, পুষ্টির অভাব বা মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার কারণেও ক্লান্তি আসতে পারে। তাই ক্রমাগত ক্লান্তি অনুভব করলে সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য।
বাংলাফ্লো/এফআইআর









