আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার মাঝেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে টেলিফোন করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। এ সময় তারা মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পাশাপাশি ভারত-ইসরায়েল বিশেষ কৌশলগত অংশীদারত্বের বিভিন্ন খাতে অগ্রগতির বিষয়গুলোও পর্যালোচনা করেন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ভারতের প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ফোন পেয়েছিলাম। সময়ের সাথে অধিক সুদৃঢ় হওয়া ভারত-ইসরায়েল বিশেষ কৌশলগত অংশীদারত্বের নানা খাতের অগ্রগতি নিয়ে আমাদের কথা হয়েছে। পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও আমরা মতামত বিনিময় করেছি।”
ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ফোনালাপে দুই শীর্ষ নেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সাথে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তারা। ভবিষ্যতে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলার বিষয়েও দুই নেতা একমত হয়েছেন।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর আমন্ত্রণে গত ফেব্রুয়ারিতে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে দুই দিনের সফরে ইসরায়েল গিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। ফোনালাপকালে দুই নেতাই ২০১৭ সালে মোদির ঐতিহাসিক ইসরায়েল সফর এবং ২০১৮ সালে ভারতে নেতানিয়াহুর সফরের স্মৃতিচারণ করেন, যা দুই দেশের সম্পর্কের এক নতুন যুগের সূচনা করেছিল।
টেলিফোন আলাপে উদীয়মান প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে একমত হন তারা। দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে শান্তি, উদ্ভাবন ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ অংশীদারত্ব গড়ে তোলার বিষয়েও তারা ঐক্যমতে পৌঁছান।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ভারত-ইসরায়েলের এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা গড়ে তোলার মাধ্যমে শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির যৌথ লক্ষ্য অর্জনে উভয় প্রধানমন্ত্রী তাদের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। দুই নেতাই স্বীকার করেন, ভারত ও ইসরায়েলের সক্ষমতা পরস্পরের পরিপূরক—যেখানে ইসরায়েল প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে, অন্যদিকে মেধা, উন্নত উৎপাদন শিল্প ও উদ্যোক্তা শক্তির অন্যতম বড় কেন্দ্র হলো ভারত।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ












