আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: প্রচণ্ড দাবদাহ ও বৃষ্টির অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে ইউরোপের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদী। জলস্তর এতটাই নিচে নেমে গেছে যে, মহাকাশ থেকেও এই ভয়াবহ সংকট স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। উপগ্রহের ছবিতে দেখা গেছে, খটখটে শুকনো ভূমির বুক চিরে বয়ে চলা একসময়ের বিশাল নদীগুলো এখন মৃতপ্রায়। ইউরোপ পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণায়নের শিকার হওয়া মহাদেশ। মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সেখানকার গ্রীষ্মকালগুলো হয়ে উঠেছে চরমভাবাপন্ন। এর প্রভাবে নদীগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় মানুষ, অর্থনীতি এবং বাস্তুতন্ত্র—সবাই চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
বিশেষ করে ইউরোপের অন্যতম দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ—দানিউব এবং রাইন নদীর অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ। জার্মানি থেকে কৃষ্ণসাগর পর্যন্ত ১০টি দেশের ওপর দিয়ে বয়ে চলা ইউরোপের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী দানিউবের পানি হাঙ্গেরিতে রেকর্ড পরিমাণ নিচে নেমে গেছে। গত সোমবার বুদাপেস্টে দানিউবের পানির স্তর মাত্র ৪ ইঞ্চিতে নেমে আসে, যা ২০১৮ সালের রেকর্ড ১৩ ইঞ্চির চেয়েও অনেক কম।
নদী শুকিয়ে যাওয়ার বহুমুখী প্রভাব নিচে তুলে ধরা হলো:
দানিউব শুকিয়ে যাওয়ায় হাঙ্গেরিতে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। দেশটির পাকস পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এখন মাত্র ১০ শতাংশ ক্ষমতায় কাজ করছে এবং পানির অভাবে একটি বাদে বাকি সব চুল্লি বন্ধ করে দিতে হয়েছে। রোমানিয়ার চেরনোভোদা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সচল চুল্লিতে পানিপ্রবাহ বাড়াতে নৌবাহিনী বিস্ফোরক ব্যবহার করে পাথর উড়িয়ে দিয়েছে।
সুইস আল্পস থেকে উৎপন্ন হওয়া রাইন নদীর অবস্থাও সংকটাপন্ন। জার্মানির কাউবে পানির স্তর নেমেছে মাত্র ৯ ইঞ্চিতে। বালুচরে আটকে যাওয়ার ভয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে তাদের পণ্যের পরিমাণ প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে হয়েছে। এতে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবহন খরচও বেড়ে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান নদীপথের বদলে রেল ও সড়কপথ ব্যবহার করছে।
নদী শুকিয়ে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে পর্যটন খাতেও। বাতিল করতে হয়েছে অনেক রিভার ক্রুজের যাত্রা। তবে পানি কমে যাওয়ায় নদীর তলদেশ থেকে বেরিয়ে আসছে ঐতিহাসিক নানা নিদর্শন। উত্তর বুলগেরিয়ায় একটি প্রাচীন ম্যামথের দেহাবশেষ এবং সার্বিয়ায় দানিউবের বুক থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার ডুবন্ত একটি নাৎসি যুদ্ধজাহাজ জেগে উঠেছে।
ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব রিডিং-এর জলবায়ু বিজ্ঞানের অধ্যাপক রিচার্ড অ্যালান সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ু উষ্ণ হতে থাকলে বর্তমানে আমরা যা দেখছি তা কেবল হিমশৈলের চূড়া (টিপ অব দ্য আইসবার্গ) মাত্র। ভবিষ্যতে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠবে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলার একমাত্র উপায় হলো গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদি নীতি গ্রহণ করা।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ












