লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য বর্তমান সময়ের একটি অতি সাধারণ কিন্তু মারাত্মক উপেক্ষিত হজমজনিত সমস্যা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, প্রতি সপ্তাহে তিনবারের কম মলত্যাগ, শক্ত মল কিংবা মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপের মতো উপসর্গগুলো যদি টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে থাকে, তবে তাকে দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য বলা হয়। সাময়িক হজমের সমস্যার চেয়ে এটি অনেক বেশি জটিল এবং ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোমের (IBS) মতো বড় কোনো রোগের পূর্বলক্ষণ হতে পারে। বেশিরভাগ মানুষই সময়মতো এই সমস্যাটিকে গুরুত্ব দেন না, তাই এর অন্তর্নিহিত কারণগুলো জেনে সতর্ক হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
আমেরিকান গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সাময়িকীর গবেষণা অনুযায়ী, এই সমস্যার পেছনে মূলত আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসের বড় ভূমিকা রয়েছে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় আঁশ বা ফাইবারযুক্ত খাবার কম থাকা এবং পর্যাপ্ত তরল পান না করা কোষ্ঠকাঠিন্যের অন্যতম প্রধান কারণ। পানি মল নরম করতে সাহায্য করে, তাই পানিশূন্যতায় মল শুষ্ক ও শক্ত হয়ে যায়। এছাড়া নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম না করে শুয়ে-বসে থাকলে অন্ত্রের স্বাভাবিক সংকোচন বাধাগ্রস্ত হয়ে হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। এর পাশাপাশি, মলত্যাগের তাগিদ পাওয়ার পরও আলসেমি করে বা অন্য কারণে তা আটকে রাখার বদভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে স্বাভাবিক মলত্যাগের প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে।
ত্রুটিপূর্ণ জীবনযাপন ছাড়াও বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা ও ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হতে পারে। অতিরিক্ত ব্যথানাশক, বিষণ্ণতারোধী ওষুধ, নির্দিষ্ট কিছু অ্যান্টাসিড বা আয়রন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের ফলে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া হাইপোথাইরয়েডিজমের মতো হরমোন ও বিপাকীয় জটিলতা, কোলন বা রেকটামের কোনো গঠনগত ত্রুটি এবং পারকিনসন্স বা মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসের মতো স্নায়বিক রোগও মলত্যাগের স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটায়।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






