জেলা প্রতিনিধি
সিলেট: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম মন্তব্য করেছেন যে, আজ এনসিপির ওপর হামলা হলেও আগামীতে ক্ষমতার ভাগবাঁটোয়ারা নিয়ে বিএনপির নিজেদের মধ্যেই কামড়াকামড়ি শুরু হবে। তখন আর এনসিপির কর্মীর চোখ তুলতে হবে না, বিএনপিই বিএনপির চোখ তুলে ফেলবে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার থানার বাজার এলাকায় এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার হবিগঞ্জে বিএনপির নেতা-কর্মীদের হামলায় গুরুতর আঘাত পান এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা আলিফ চৌধুরী। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আলিফের বাঁ চোখের দৃষ্টিশক্তি আর কখনো ফিরবে না। সহযোদ্ধার ওপর হওয়া এই বর্বরোচিত হামলার প্রসঙ্গ টেনেই এমন কড়া মন্তব্য করেন সারজিস আলম।
পথসভায় বিএনপির একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে সারজিস বলেন, “বিএনপির ১০০ জন মানুষের মধ্যে বড়জোর ৫ জন অফিসে গিয়ে টেন্ডার নেওয়া, থানা নিয়ন্ত্রণ, হাসপাতাল ও রাস্তার ঠিকাদারি থেকে চাঁদাবাজির মতো কাজগুলো করছে। এই ৫ জনের কুকর্মের কারণেই আমরা হাসপাতালে চিকিৎসা পাই না, রাস্তা নষ্ট হয়ে যায়, সব জায়গায় লুটপাট চলে। আপনারা বাকি ৯৫ জন কেন ওই ৫ জনের অপকর্মের দায় নিজেদের কাঁধে নেবেন?”
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির ওপর হওয়া জুলুমের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, যে দল ১৭ বছর ধরে গুম, খুন ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছে এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আমাদের সঙ্গে এক কাতারে ছিল, তারাই যদি এখন নতুন করে স্বৈরাচার হতে চায়, তবে আমরা তা হতে দেব না। প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রী যিনিই হোন না কেন, ক্ষমতাসীনরা ভুল করলে তাদের কঠোর সমালোচনা করা হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি।
একই পথসভায় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “আমরা আর কাউকে উপদেষ্টা বানাব না। সবাই দেশের বারোটা বাজিয়ে চলে গেছে। এবার অ্যাকশন একটাই—তরুণেরা যেভাবে দেশে ডাকাত ঠেকিয়েছে, সেভাবেই তারা ক্ষমতায় গিয়ে নেতৃত্ব দিয়ে চাঁদাবাজি বন্ধ করবে।”
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীক না থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তরুণ সমাজকে দলবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে দাঁড়িয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ












