বাংলাফ্লো ডেস্ক
ঢাকা: দেশের পরবর্তী (২৩তম) রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন বিএনপির বর্তমান মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে স্বভাবতই দলীয় সব পদ থেকে তাকে পদত্যাগ করতে হবে। আর এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব কে হচ্ছেন, তা নিয়ে দলের ভেতরে-বাইরে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য ও দলীয় সূত্রমতে, মহাসচিব পদের এই দৌড়ে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রয়েছেন দলের বর্তমান সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
সরকার গঠনের আগে মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নাম শোনা গেলেও, বর্তমানে তারা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকায় অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন। সে তুলনায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রিজভীর ব্যস্ততা কিছুটা কম। এছাড়া দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে দলের দুঃসময়ে রাজপথে এবং দলীয় কার্যালয়ে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা রিজভী তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
মহাসচিব হিসেবে রিজভীর নাম আলোচনায় আসার মূল কারণসমূহ:
তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ: দীর্ঘসময় দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত থাকায় এবং দলের জন্য ‘ফুলটাইম’ নিবেদিতপ্রাণ হওয়ায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার গভীর সংযোগ রয়েছে।
ত্যাগের মূল্যায়ন: ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে ৯ বার কারাবরণ করেছেন রিজভী এবং তার বিরুদ্ধে আড়াইশর বেশি মামলা হয়েছিল। এরশাদ আমলেও তিনি ৭ বার কারাবরণ করেন এবং পুলিশের গুলিতে পঙ্গুত্ববরণ করেন।
সংকটকালে নেতৃত্ব: শীর্ষ নেতারা যখন কারাগারে, তখন ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত টানা ৭৮৭ দিন নয়াপল্টন কার্যালয়ে অবস্থান করে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখেন রিজভী। এছাড়া ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের সংঘাতের পর পুলিশ কার্যালয়ে তালা দিলে, ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি তার নেতৃত্বেই তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন নেতাকর্মীরা।
ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা: বিএনপিতে সাধারণত সিনিয়র যুগ্মমহাসচিবকেই পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মির্জা ফখরুলও ২০১১ সালে প্রথমে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হয়েছিলেন।
রুহুল কবির রিজভীর রাজনৈতিক বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার:
উচ্চমাধ্যমিক শেষে বামপন্থি সংগঠন ‘বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন’-এর মাধ্যমে রাজনীতিতে হাতেখড়ি।
ছাত্রদল প্রতিষ্ঠালগ্নে দলটিতে যোগদান করেন এবং ১৯৮৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি নির্বাচিত হন।
১৯৯২ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের সদস্য ছিলেন।
২০১৬ সালের ষষ্ঠ কাউন্সিলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব নির্বাচিত হন। ২০১৮ এবং ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
মহাসচিব পদের জল্পনা নিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, “মহাসচিব পদ নিয়ে কী হচ্ছে আমার জানা নেই। তবে আমি দলের প্রতি শতভাগ আনুগত্য প্রকাশ করেই কাজ করছি। দল আমাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবে, সেটা বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং দলের নীতিনির্ধারকরাই ঠিক করবেন।”
অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থীর নাম এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি বিএনপি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন। জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার পূর্ণ দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিয়েছে স্থায়ী কমিটি। শেষ পর্যন্ত তার সিদ্ধান্তেই নির্ধারিত হবে কে হবেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি এবং কে ধরবেন বিএনপির মহাসচিবের হাল।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ












