বিনোদন ডেস্ক
ঢাকা: চলচ্চিত্র নির্মাণের নামে ১৩ কোটি টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে ঢালিউডের চিত্রনায়িকা পূজা চেরির বাবা দেবু প্রসাদ রায়কে। বাবার বিরুদ্ধে ওঠা এমন গুরুতর অভিযোগ ও কারাবাস নিয়ে এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দীর্ঘ এক স্ট্যাটাস দিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন এই অভিনেত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বাবার কোনো আর্থিক লেনদেন বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সঙ্গে তাঁর কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই।

আজ রোববার (২৬ এপ্রিল) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে পূজা চেরি লেখেন, “আমার বাবার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সাথে ব্যক্তিগতভাবে আমার কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই। দীর্ঘ ১০-১২ বছর ধরে আমি মিডিয়াতে কাজ করছি এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের ক্যারিয়ার ও জীবনযাপনের খরচ সম্পূর্ণভাবে নিজেই নির্বাহ করে আসছি।” তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, তাঁর বাবার কোনো ব্যবসায়িক কার্যক্রম বা আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে তাঁর বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই এবং বর্তমানে কোনো প্রোডাকশন হাউস বা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের মালিকানার সঙ্গেও তিনি যুক্ত নন।
উদ্ভূত এই পরিস্থিতি তাঁর জন্য মানসিকভাবে কষ্টদায়ক উল্লেখ করে পূজা আরও লেখেন, “একজন শিল্পী হিসেবে আমি সবসময় দর্শকদের ভালোবাসা এবং সম্মানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেছি। পরিবারের সদস্য হওয়ার সূত্রে উদ্ভূত এই পরিস্থিতি আমার জন্য মানসিকভাবে কষ্টদায়ক, তবে এটি একান্তই তার ব্যক্তিগত আইনি বিষয়। আমি আশা করি, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং সত্য উদ্ঘাটিত হবে। মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে, বিষয়টি বিজ্ঞ আদালত দেখবেন এবং সিদ্ধান্ত নিবেন।” এই স্পর্শকাতর সময়ে অহেতুক তাঁকে বা তাঁর কাজকে এই ঘটনার সঙ্গে না জড়ানোর জন্য বিনীত অনুরোধ করে দর্শকদের পাশে চেয়েছেন তিনি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মিজানুর রহমানের কাছ থেকে চলচ্চিত্র প্রযোজনার ব্যবসার কথা বলে ২০১৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা নেন দেবু প্রসাদ রায়। এরপর একই আশ্বাসে আরও ৫০ লাখ এবং পরে গত ২০২৪ সালের ১৫ মে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে আরও ৬ কোটি টাকা গ্রহণ করেন তিনি। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে আরও ১ কোটি ২০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সর্বশেষ চলতি বছরের ৩০ মার্চও তাঁর অনুরোধে বিকাশে অতিরিক্ত অর্থ পাঠানো হয়। প্রতারণার মাধ্যমে মোট ১৩ কোটি ২০ লাখ ১০ হাজার ২০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা এই মামলায় গত ১৮ এপ্রিল আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন, যা গতকাল শনিবার প্রকাশ্যে আসে।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ






