লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: ইয়ারবাডের ব্যবহার আমাদের বেশিরভাগের জন্যই একটি দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। যাতায়াতের সময়, ব্যায়ামের সময়, ফোনে কথা বলার সময় কিংবা অবসর কাটাতে এটি নিয়মিত ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এই দীর্ঘ সময় ইয়ারবাড ব্যবহার কি নীরবে আপনার শ্রবণশক্তির ক্ষতি করতে পারে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হ্যাঁ! দীর্ঘ সময় ধরে এবং ঘন ঘন ইয়ারবাড ব্যবহার, বিশেষ করে উচ্চ ভলিউমে গান শোনা বা কথা বলা, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে শ্রবণশক্তির মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।
ইয়ারবাড কীভাবে কানের ক্ষতি করে? ঝুঁকিটি কেবল শব্দের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে না, বরং কান কতক্ষণ এবং কত ঘন ঘন এর সংস্পর্শে আসছে তার ওপরও নির্ভর করে। ইয়ারবাড বাইরের স্পিকারের চেয়ে কানের পর্দার অনেক কাছে থাকে এবং উচ্চ তীব্রতার শব্দ সরাসরি কানের মধ্যে পৌঁছে দেয়।
দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ শব্দের সংস্পর্শে থাকলে অন্তঃকর্ণের ভেতরের ক্ষুদ্র হেয়ার সেলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এগুলো শব্দ শনাক্ত করার জন্য দায়ী, এবং এই কোষগুলো একবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে আর পুনরুজ্জীবিত হয় না।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা একটানা ব্যবহার, এমনকি মাঝারি ভলিউমেও, এক ব্যবহারের পর আরেক ব্যবহারের মাঝে কান পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায় না।
কানে ঠিকমতো না বসা ইয়ারবাডের কারণে ব্যবহারকারীরা পারিপার্শ্বিক শব্দ চাপা দেওয়ার জন্য ভলিউম আরও বাড়িয়ে দিতে পারেন, যা ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তোলে।
দীর্ঘদিন ধরে ইয়ারবাড ব্যবহারের ফলে কানে খৈল জমে যাওয়াও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শ্রবণশক্তির প্রকৃত ক্ষতি ছাড়াও কান বন্ধ হয়ে যাওয়ার অনুভূতির কারণ হতে পারে।
গবেষণায় কী জানা গেছে? ‘কিউরিয়াস’ (Cureus)-এ প্রকাশিত ২০২২ সালের একটি পর্যালোচনা অনুসারে, গবেষকরা সারা বিশ্বের ২৩টি গবেষণা বিশ্লেষণ করেছেন। এতে দেখা গেছে, ব্যক্তিগত মিউজিক প্লেয়ারের ভলিউম ৭৮ থেকে ১৩৬ ডেসিবেল পর্যন্ত হতে পারে, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কানের প্রকৃত ক্ষতি করার জন্য যথেষ্ট। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যে শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন দুই বা তার বেশি ঘণ্টা ইয়ারফোন ব্যবহার করত, তাদের শ্রবণশক্তি হ্রাসের হার অন্যদের তুলনায় লক্ষণীয়ভাবে বেশি। অন্য একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে হেডফোনের মাধ্যমে উচ্চ শব্দে অভ্যস্ত কিশোর-কিশোরীদের শ্রবণ সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি চার গুণেরও বেশি।
দিনে কতক্ষণ ইয়ারবাড ব্যবহার নিরাপদ? এর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই যা সবার জন্য প্রযোজ্য, কারণ এটি ভলিউমের মাত্রা এবং ব্যবহারের সময়কালের ওপর নির্ভর করে। তবে সাধারণ নির্দেশিকা হিসেবে শ্রবণ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ‘৬০/৬০ নিয়ম’টি অনুসরণ করার পরামর্শ দেন। অর্থাৎ, ভলিউম সর্বোচ্চের প্রায় ৬০ শতাংশে রাখতে হবে এবং একবারে সর্বোচ্চ ৬০ মিনিট শোনার পর কানকে বিশ্রাম দিতে হবে।
একটানা সারাদিন পরার পরিবর্তে নিয়মিত বিরতিসহ দৈনিক ব্যবহার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। ‘জার্নাল অফ অডিওলজি অ্যান্ড অটোলজিতে’ প্রকাশিত ২০২৫ সালের একটি গবেষণা অনুসারে, যারা একটানা এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ইয়ারফোন ব্যবহার করেন, তাদের মধ্যে ইয়ারফোন-সম্পর্কিত কানের সংক্রমণ বেশি দেখা গেছে।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ












