আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) লং মার্চ কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীজুড়ে তীব্র অচলাবস্থা ও অঘোষিত লকডাউন জারি করেছে দেশটির শেহবাজ শরিফ সরকার। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাজধানী সিলগালা করে দেওয়ার পাশাপাশি ব্যাপক রক্তপাত এড়াতে নিজেদের কর্মসূচি আগামী ৪ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে পিটিআই।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও ইসলামাবাদ অভিমুখে চূড়ান্ত লং মার্চের ডাক দিয়েছিল পিটিআই। তবে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে এক বিবৃতিতে দলটি জানায়, কর্মসূচি কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া তাদের একটি সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক কৌশল। সরকারের ওপর ধারাবাহিক চাপ বজায় রাখা এবং রাজধানী এভাবে কতদিন অবরুদ্ধ রাখা সম্ভব—তা দেখতেই ৪ অক্টোবর নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া রাজধানীতে মোতায়েন করা হাজার হাজার পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়ানোও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
এদিকে লং মার্চ ঠেকাতে ইসলামাবাদে প্রবেশকারী সমস্ত সংযোগ সড়ক ভারী কনটেইনার ফেলে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং শহরজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে কয়েক হাজার পুলিশ সদস্য। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পরিষ্কার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কর্মসূচিতে অংশ নিতে যারাই ইসলামাবাদে প্রবেশের চেষ্টা করবে, তাদের তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার জনগণের কাছে অজনপ্রিয় হলেও পর্দার আড়ালে সেনাপ্রধান ফিল্ডমার্শাল অসিম মুনিরই দেশটির ক্ষমতার মূল চালিকাশক্তি। ফলে জনসমর্থনে এগিয়ে থাকা ইমরান খানের এই আন্দোলন সামরিক বাহিনী সমর্থিত সরকারের জন্য এক অগ্নিপরীক্ষা হয়ে উঠেছে।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ










