আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি নিয়ে যখন বিশ্বরাজনীতি তোলপাড়, ঠিক তখনই এতে নতুন মোড় নিয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তৈরি হতে যাওয়া এই চুক্তির কোনো অংশীদার বা পক্ষ ইসরায়েল হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। এদিকে খোদ ইরানও স্পষ্ট করেছে যে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তির আশা করলেও আজ রোববারই (১৪ জুন) এটি সই হচ্ছে না।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান সীমিত করার জন্য চাপ দিচ্ছে ওয়াশিংটন। এই মার্কিন আহ্বানকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই চুক্তি সফল হলে তা লেবানন যুদ্ধের অবসান ঘটাবে এবং দখলকৃত এলাকা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। তবে ইরানের এমন দাবি শুরুতেই উড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ফিলিস্তিনি কিংবা লেবাননের ভূখণ্ড থেকে তারা কোনো সেনা সরাবেন না। ইসরায়েলের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যেকোনো ধরনের হুমকির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে ইসরায়েল নিজের স্বাধীনতা বজায় রাখবে।
এদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করে লিখেছিলেন, “আমরা একটি শান্তি চুক্তির ইতিহাসের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছি।” আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর (ই-স্বাক্ষর) অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
তবে পাকিস্তানের এমন বার্তার পর রোববারই চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘাঈ দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “চুক্তি সইয়ের সুনির্দিষ্ট সময়ের জন্য আমাদের আরও অপেক্ষা করতে হবে। তবে এটি আগামীকাল (রোববার) হচ্ছে না।” অবশ্য আগামী দিনগুলোতে চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তিনি একেবারে উড়িয়ে দেননি। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর এই মহাপরিকল্পনা কতটা আলোর মুখ দেখবে, তা নিয়ে এখনো এক ধরনের ধোঁয়াশা রয়েই গেল।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






