আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: প্রবল গণবিক্ষোভের মুখে একসময় কলকাতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। দীর্ঘ দুই দশক পর আবারও তিনি সেই শহরে পা রাখলেন। শুক্রবার (৩০ জুলাই) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে একটি ফ্লাইটে করে কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। সেখানে পৌঁছালে তার অনুরাগী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
জানা গেছে, আগামীকাল শনিবার রবীন্দ্র সদনে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন এই লেখিকা। সেখানে তিনি নিজের লেখা কবিতা আবৃত্তি করবেন বলে কথা রয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীসহ আরও বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত থাকবেন।
ময়মনসিংহের সন্তান তসলিমা নাসরিন তার বিতর্কিত লেখালেখির জেরে ১৯৯৪ সালে নিজ দেশ বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত হন। এরপর কিছুদিন ইউরোপে কাটানোর পর তিনি ভারতের কলকাতায় বসবাস শুরু করেছিলেন। কিন্তু তার লেখা আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘দ্বিখণ্ডিত’-কে কেন্দ্র করে সেখানেও ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয় এবং তার বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন শুরু হয়।
তীব্র গণঅসন্তোষের মুখে ২০০৭ সালে তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাকে কলকাতা থেকে বের করে দেয়। এরপর তিনি দিল্লিতে আশ্রয় নেন এবং পরবর্তীতে ইউরোপ ঘুরে আবারও দিল্লিতেই পাকাপাকিভাবে থিতু হন। দীর্ঘ দুই দশক পর প্রিয় শহরে পা রেখে উচ্ছ্বসিত তসলিমা গণমাধ্যমকে বলেন, “এখানে আবার ফিরে আসতে পেরে আমার সত্যিই খুব ভালো লাগছে।”
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে কলকাতা থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর বহুবার সেখানে ফিরে যাওয়ার আকুলতা প্রকাশ করেছিলেন এই লেখিকা। কলকাতাকে তিনি সবসময় নিজের ‘দ্বিতীয় বাড়ি’ হিসেবেই বিবেচনা করতেন।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ












