লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: বাতাস, পানীয় জল ও খাদ্যের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রতিনিয়ত প্রবেশ করছে ক্ষতিকর প্লাস্টিক কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিক। গবেষকরা বলছেন, শতভাগ প্লাস্টিকমুক্ত থাকা হয়তো এখন আর সম্ভব নয়। তবে দৈনন্দিন জীবনের বেশ কিছু অভ্যাসে বদল আনলে এই নীরব ঘাতকের হাত থেকে অনেকটাই সুরক্ষিত থাকা যায়। চলুন জেনে নিই মাইক্রোপ্লাস্টিকের ভয়াবহতা এবং এর ঝুঁকি কমানোর ৭টি সহজ উপায়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা মানবদেহের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। এটি দীর্ঘমেয়াদে শরীরে জমলে অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতিসাধন, ডিএনএ-এর বিকৃতি, প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস থেকে শুরু করে কোষ ধ্বংসের মতো মারাত্মক সমস্যা তৈরি করতে পারে। তবে পরিবেশবিজ্ঞানীরা মনে করেন, বর্তমান বাস্তবতায় এটিকে পুরোপুরি ঠেকানো অসম্ভব। কারণ এটি শুধু খাবারের মাধ্যমেই নয়, বরং শ্বাস-প্রশ্বাস এবং ত্বকের রন্ধ্রপথেও আমাদের শরীরে অনায়াসে ঢুকে পড়ে। তারপরও কিছু সতর্কতা অবলম্বন করলে এই ঝুঁকি বহুলাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
১. পানি সবসময় ফিল্টার করে পান করুন সরাসরি টিউবওয়েল বা কলের পানিতেও মাইক্রোপ্লাস্টিক মিশে থাকতে পারে। তাই পান করার আগে পানি অবশ্যই ফিল্টার করে নেওয়া উচিত। এতে ক্ষতিকর প্লাস্টিকের কণাগুলো অনেকটাই ছেঁকে আলাদা হয়ে যায়।
২. প্রক্রিয়াজাত ও বাইরের প্যাকেটজাত খাবার পরিহার বাজার থেকে কেনা প্যাকেটজাত বা প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া যথাসম্ভব কমিয়ে ফেলা উচিত। প্লাস্টিকের পাত্রে রাখা খাবার, বিশেষ করে গরম খাবার থেকে সহজেই প্লাস্টিক কণা মূল খাবারে মিশে যায়। এর চেয়ে বাড়িতে রান্না করা স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
৩. খাবার সংরক্ষণে কাচ ও ধাতব পাত্রের ব্যবহার বাসাবাড়িতে খাবার রাখার জন্য প্লাস্টিকের বদলে কাচ, স্টিল বা অন্যান্য ধাতব পাত্র ব্যবহার করা শ্রেয়। এসব পাত্র খাবারে দূষণ ছড়ায় না। অন্যদিকে প্লাস্টিকের পাত্র বেশি গরম হয়ে গেলে বা ফাটল ধরলে সেখান থেকে বিষাক্ত কণা খাবারে মেশার তীব্র ঝুঁকি থাকে।
৪. একবার ব্যবহারযোগ্য বা সিঙ্গেল-ইউজ প্লাস্টিক বর্জন স্ট্র, ওয়ান-টাইম গ্লাস, প্যাকেট, বাটি, ট্রে বা প্লাস্টিকের কাঁটা-চামচ থেকে সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক ছড়ায়। তাই একবার ব্যবহারের পর ফেলে দিতে হয়—এমন প্লাস্টিক পণ্যগুলো দৈনন্দিন জীবনে সম্পূর্ণ পরিহার করা উচিত।
৫. পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ও কাপড়ের ব্যবহার পলিথিনের বিকল্প হিসেবে সুতি, চট বা অন্যান্য পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ব্যবহারের পরামর্শ দেন পরিবেশবিদরা। পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রেও পলিয়েস্টার এড়িয়ে সুতি, লিনেন বা উলের কাপড় বেছে নিন। বিছানার চাদর কিংবা তোয়ালে কেনার ক্ষেত্রেও এই বিষয়গুলো মাথায় রাখা জরুরি।
৬. সামুদ্রিক খাবারের ক্ষেত্রে সতর্কতা সাগরের পানিতে প্রচুর পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য মেশার কারণে সেখানকার মাছ ও জলজ প্রাণীর শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক ঢুকে যাচ্ছে। গবেষকরা সামুদ্রিক মাছেও এই ক্ষতিকর কণার উপস্থিতি পেয়েছেন। ফলে এসব সামুদ্রিক মাছ ও প্রাণী খেলে মানুষের শরীরেও অনায়াসে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশ করে।
৭. প্লাস্টিকমুক্ত প্রসাধনী সামগ্রী ব্যবহার আমাদের নিত্যব্যবহার্য রূপচর্চা ও পরিচ্ছন্নতার সামগ্রী থেকেও প্লাস্টিক শরীরে ঢুকতে পারে। ফেস স্ক্রাব, টুথপেস্ট বা যেকোনো প্রসাধনী কেনার আগে মোড়কের গায়ে থাকা উপাদানগুলো ভালোভাবে পড়ে নিন। যদি সেখানে পলিপ্রপিলিন বা পলিথিন জাতীয় কোনো রাসায়নিকের নাম উল্লেখ থাকে, তবে সেই পণ্য কেনা ও ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ












