বাংলাফ্লো ডেস্ক
ঢাকা: বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ প্রশিক্ষণের দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধারায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। গত এক দশকে প্রশিক্ষণের জন্য ভারতের মুসৌরি প্রধান গন্তব্য থাকলেও, প্রথমবারের মতো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে প্রশিক্ষণে গিয়েছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং ভারতের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ ও ভিসা জটিলতার কারণে এই নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে।
নেতৃত্ব ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় সরকারের ১২ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বর্তমানে পাকিস্তানের লাহোরে অবস্থিত সিভিল সার্ভিস একাডেমিতে (সিএসএ) প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। গত ৪ মে শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণ চলবে ২১ মে পর্যন্ত। এই দলে একজন অতিরিক্ত সচিব এবং ১১ জন যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা রয়েছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই প্রশিক্ষণের যাতায়াত ও থাকা-খাওয়াসহ যাবতীয় ব্যয় বহন করছে পাকিস্তান সরকার।
২০১৪ সাল থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতের মুসৌরিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণে যেতেন বাংলাদেশের কর্মকর্তারা। প্রায় ৩ হাজার কর্মকর্তা এ পর্যন্ত সেখানে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঢাকা-দিল্লি কূটনৈতিক শীতলতার কারণে এই কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। সবশেষ ২০২৩ সালের অক্টোবরে একটি দল ভারতে গিয়েছিল। বর্তমানে ভারতের সঙ্গে থাকা আগের চুক্তির মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এর আগে পাকিস্তান একাধিকবার আমন্ত্রণ জানালেও পূর্ববর্তী সরকার তাতে সাড়া দেয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু হয় এবং বর্তমান বিএনপি সরকার গঠনের পর পাকিস্তান থেকে আসা আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়। যদিও পাকিস্তানের সঙ্গে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ চুক্তি হয়নি, তবে এই সফরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ভারত আবারও বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে। ‘ইন্ডিয়ান টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন’ (আইটিইসি)-এর আওতায় মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আবেদনের আহ্বান জানিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তবে এবারের প্রস্তাবটি আগের মতো শুধুমাত্র বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের জন্য নয়, বরং অন্যান্য দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে এই কোর্স করতে হবে।
সাবেক সচিব ও বিপিএটিসি-র সাবেক রেক্টর এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, “প্রশিক্ষণের জন্য ভারত ও পাকিস্তান—উভয় দেশেই যাওয়া প্রয়োজন। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা বিনিময় দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা ও নেতৃত্বের বিকাশে সহায়ক।” তিনি আরও যোগ করেন যে, বিদেশে প্রশিক্ষণ শেষে কর্মকর্তারা দেশে ফিরে কতটা অবদান রাখছেন, তার সঠিক মূল্যায়ন হওয়া জরুরি।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






