আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: টানা ১০ দিনের রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনা আর অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অবশেষে ভারতের কেরালা (কেরলম) রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ভি ডি সতীশনের নাম ঘোষণা করেছে কংগ্রেস। আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) নয়াদিল্লিতে কংগ্রেসের সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান কেরালা কংগ্রেসের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দীপা দাশমুন্সী।
কেরালার বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বামফ্রন্ট জোটকে (এলডিএফ) বড় ব্যবধানে হারিয়ে জয়ী হয়েছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ (ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট) জোট। ১৪০ সদস্যের বিধানসভায় ইউডিএফ জিতেছে ১০২টি আসন। গত ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হলেও মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন নিয়ে দলের ভেতর ত্রিমুখী লড়াই শুরু হওয়ায় সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়।
মুখ্যমন্ত্রিত্বের দৌড়ে শক্ত অবস্থানে ছিলেন তিন হেভিওয়েট নেতা—সাবেক প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি রমেশ চেন্নিথালা (৬৯), বিদায়ী বিধানসভার বিরোধী নেতা ভি ডি সতীশন (৬১) এবং এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল (৬৩)। বেণুগোপাল গান্ধী পরিবারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হলেও উপ-নির্বাচনের ঝুঁকি ও দলের সাংগঠনিক প্রয়োজনে শেষ পর্যন্ত তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করা হয়নি।
২০০১ সাল থেকে টানা ছয়বার বিধায়ক নির্বাচিত হওয়া ভি ডি সতীশন গত পাঁচ বছর বিরোধী দলনেতা হিসেবে বামফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রধান মুখ ছিলেন। তবে তাঁর পাল্লা ভারী হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে ইউডিএফ-এর প্রধান শরিক দল ‘ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ’ (আইইউএমএল)। কেরালা ও বিশেষ করে ওয়েনাড অঞ্চলে সতীশনের পক্ষে ব্যাপক জনসমর্থন এবং শরিক দলের অনড় অবস্থানের কারণে কংগ্রেস হাই কমান্ড সতীশনকেই বেছে নিতে বাধ্য হয়।
অতীতে কংগ্রেস সাধারণত নির্বাচিত বিধায়কদের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতকেই গুরুত্ব দিত। তবে এবার ৬৩ জন বিধায়কের বড় অংশের সমর্থন বেণুগোপালের দিকে থাকলেও শরিকদের তুষ্ট করতে প্রথা ভেঙে সতীশনের নাম ঘোষণা করলেন মল্লিকার্জুন খাড়গে ও রাহুল গান্ধী।
সতীশনের নাম ঘোষণার পর কে সি বেণুগোপাল জানিয়েছেন, তিনি এই সিদ্ধান্তে খুশি। অন্যদিকে, রমেশ চেন্নিথালাকে বিধানসভার স্পিকার করা হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। আগামী ২৩ মে’র মধ্যে কেরালার নতুন সরকার গঠন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। খুব শীঘ্রই সতীশনের শপথ গ্রহণের তারিখ ঘোষণা করা হবে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






