আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: এমভি হন্ডিয়াস (MV Hondius) নামক একটি ক্রুজ জাহাজে ছড়িয়ে পড়া হান্টা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবে আক্রান্তদের মধ্যে আটজনের শরীরে অত্যন্ত বিপজ্জনক ‘অ্যান্ডিজ ভাইরাস’ শনাক্ত হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। হান্টা ভাইরাসের অসংখ্য ধরনের মধ্যে অ্যান্ডিজ ভাইরাসই একমাত্র ধরন, যা সরাসরি মানুষের দেহ থেকে মানুষের দেহে সংক্রমিত হতে পারে।
জেনেভা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, গত ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনা থেকে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দেওয়া এই জাহাজটিতে এ পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ডব্লিউএইচও’র হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, মৃতদের মধ্যে দুইজনের শরীরে অ্যান্ডিজ ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। অন্য একজনকে ‘সম্ভাব্য’ আক্রান্ত হিসেবে তালিকায় রাখা হয়েছে।
ডব্লিউএইচও আরও জানিয়েছে, ল্যাবরেটরিতে আটজনের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া ছাড়াও আরও দুটি সম্ভাব্য ঘটনা এবং একজনের অমীমাংসিত ফলাফল নিয়ে পরীক্ষা চলছে। বর্তমানে কোনো উপসর্গ না থাকলেও ওই মার্কিন যাত্রীকে উন্নত পরীক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সাধারণত আক্রান্ত ইঁদুরের মল-মূত্র বা লালার মাধ্যমে হান্টা ভাইরাস ছড়ায়। তবে অ্যান্ডিজ ভাইরাসের ক্ষেত্রে মানুষের মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি থাকায় এটি বিশেষ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বিরল রোগের এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট টিকা বা স্বীকৃত চিকিৎসা নেই।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাদুর্ভাবের উৎস এখনও অস্পষ্ট থাকলেও মূল সংক্রমণটি সম্ভবত ক্রুজ যাত্রা শুরুর আগেই ঘটেছিল। কারণ, প্রথম আক্রান্ত ৭০ বছর বয়সি ডাচ নাগরিক ৬ এপ্রিল উপসর্গ দেখাতে শুরু করেন। ভাইরাসের সুপ্তিকাল (Incubation Period) সাধারণত এক থেকে ছয় সপ্তাহ হওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, আক্রান্তরা জাহাজে ওঠার আগেই কোনোভাবে ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছিলেন।
বর্তমানে ডব্লিউএইচও এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর স্বাস্থ্য বিভাগ এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। জাহাজের অন্যান্য যাত্রীদেরও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






