লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: সংসারের জরুরি এবং ব্যস্ত গৃহস্থালি যন্ত্রগুলোর একটি হলো রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজ। বছরের ৩৬৫ দিনই এটি বিরতিহীনভাবে চলতে থাকে। তবে সঠিক যত্ন আর নিয়মিত পরিষ্কার না করার কারণে অনেক সময় ফ্রিজ থেকে দুর্গন্ধ বের হয়, খাবার দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় এবং কম্প্রেসরের ওপর চাপ পড়ে বিদ্যুৎ বিল আকাশচুম্বী হয়। ‘আমেরিকান ক্লিনিং ইনস্টিটিউট (এসিআই)’ এবং খাদ্য নিরাপত্তাবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নিয়মে ফ্রিজ রক্ষণাবেক্ষণ করলে এর কার্যক্ষমতা প্রায় দ্বিগুণ বাড়ানো সম্ভব। ফ্রিজ নতুনের মতো সচল রাখতে এবং খাবারের পুষ্টিগুণ বজায় রাখতে তারা বেশ কয়েকটি প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন।
ফ্রিজ ভালো রাখার প্রথম শর্ত হলো এর ভেতরের তাপমাত্রা ঠিক রাখা। মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) নির্দেশিকা অনুযায়ী, ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রা সবসময় ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের নিচে এবং ডিপ ফ্রিজের তাপমাত্রা মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা শূন্য ডিগ্রি ফারেনহাইট হওয়া উচিত, যাতে খাবারে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে না পারে। ফ্রিজে অতিরিক্ত খাবার গাদাগাদি করে রাখলে বা একদম খালি রাখলে তাপমাত্রা ধরে রাখতে কম্প্রেসরের ওপর বেশি চাপ পড়ে। তাই এসিআইয়ের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ফ্রিজের ভেতরে অন্তত ২০ শতাংশ জায়গা খালি রাখা উচিত, যেন বাতাস সহজে চলাচল করতে পারে। এছাড়া যেকোনো গরম খাবার সরাসরি ফ্রিজে না রেখে ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এনে তারপরই রাখা উচিত। এতে ফ্রিজের অন্যান্য খাবার নষ্ট হওয়ার ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচের ঝুঁকি কমে।
ফ্রিজকে দীর্ঘস্থায়ী করতে বাহ্যিক ও যান্ত্রিক কিছু যত্নও প্রয়োজন। ফ্রিজের পেছনে বা নিচের দিকে থাকা কনডেন্সার কয়েলটি দীর্ঘ সময় ধুলোবালি জমে থাকলে ঠিকমতো ঠান্ডা হতে পারে না। তাই বছরে অন্তত দুবার একটি নরম ব্রাশ বা ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে এই কয়েল পরিষ্কার করা উচিত। ফ্রিজটি দেয়ালের সাথে একদম না ঠেকিয়ে পেছন এবং দুই পাশে অন্তত ১ থেকে ২ ইঞ্চি জায়গা ফাঁকা রাখা দরকার, যাতে কম্প্রেসরের গরম বাতাস সহজে বেরিয়ে যেতে পারে। ফ্রিজের দরজার চারপাশের রাবার বা গ্যাসকেট আলগা হয়ে গেলে ভেতরের ঠান্ডা বাতাস বাইরে বের হয়ে যায়। এটি পরীক্ষার জন্য দরজার মাঝে একটি কাগজ রেখে বন্ধ করে দেখতে হবে; কাগজটি সহজে টেনে বের করা গেলে রাবারটি পরিবর্তন করতে হবে।
ফ্রিজ দুর্গন্ধমুক্ত ও পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি। ফ্রিজে মাছ, মাংস বা মসলার তীব্র গন্ধ দূর করতে রাসায়নিক স্প্রে ব্যবহার না করে একটি ছোট বাটিতে সামান্য বেকিং সোডা বা কয়েক টুকরো কাঠকয়লা ফ্রিজের এক কোণায় রেখে দিলে তা সব দুর্গন্ধ ও আর্দ্রতা শুষে নেয়। লেবুর রস দিয়ে মুছলেও চমৎকার সুবাস ছড়ায়। সবশেষে, ফ্রিজটি ‘নন-ফ্রস্ট’ না হলে বরফ আধা ইঞ্চি পুরু হলেই তা ডিফ্রোস্ট বা গলিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। বরফ কাটতে কখনোই ছুরি বা ধারালো বস্তু ব্যবহার করা যাবে না। প্রতি মাসে অন্তত একবার ফ্রিজের প্লাগ খুলে ভেতরের সব তাক বের করে কুসুম গরম পানি ও বাসন ধোয়ার তরল সাবান দিয়ে পরিষ্কার করলে ফ্রিজ দীর্ঘদিন নতুনের মতো সচল থাকে।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ









