লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: রক্তে শর্করার মাত্রা ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করলে অনেকেই সঙ্গে সঙ্গে খাদ্যতালিকায় নতুন কিছু যোগ করার উপায় খোঁজেন। প্রতিদিনের খাবার পরিবর্তনের চেয়ে পাউডার, ট্যাবলেট বা প্রাকৃতিক প্রতিকার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সহজ বলে মনে হয়। কিন্তু রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ খুব কমই কোনো একটি জাদুকরী পুষ্টি উপাদানের ওপর নির্ভর করে। এটি মূলত নির্ভর করে পুরো খাবারটি হজম, ইনসুলিন এবং গ্লুকোজের ব্যবহারকে কীভাবে প্রভাবিত করে তার ওপর। তাই ডায়াবেটিসের মৌলিক যত্নের পাশাপাশি কিছু নির্দিষ্ট পুষ্টি উপাদানের প্রতি মনোযোগ দেওয়া উচিত।
প্রোটিন: রক্তে শর্করার ক্ষেত্রে প্রোটিন শুধু পেশি গঠনের পুষ্টি উপাদানের চেয়েও বেশি কিছু। শর্করা-সমৃদ্ধ খাবারের আগে বা সঙ্গে প্রোটিন খেলে তা হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দিতে পারে এবং খাবারের পর গ্লুকোজের প্রতিক্রিয়ায় পরিবর্তন আনতে পারে। ডিম, পনির, মুরগি বা মাছ থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন গ্রহণ করলে তা পাকস্থলী খালি হওয়ার প্রক্রিয়াকে ধীর করে এবং গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধিকে মন্থর করে।
ফাইবার: যারা খাবারের মাধ্যমে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেন, তাদের জন্য ফাইবার সবচেয়ে উপকারী পুষ্টি উপাদানগুলোর মধ্যে একটি। দ্রবণীয় ফাইবার হজমের সময় একটি ধীরগতির মিশ্রণ তৈরি করে, যা গ্লুকোজ শোষণকে বিলম্বিত করতে পারে। বেরি, কিউই এবং অ্যাভোকাডোর মতো ফল ফাইবার সরবরাহ করতে পারে, অন্যদিকে পালং শাক এবং লাউয়ের মতো সবজি শ্বেতসারযুক্ত খাবারের মতো কার্বোহাইড্রেটের বোঝা ছাড়াই খাবারের পরিমাণ বাড়ায়।
স্বাস্থ্যকর ফ্যাট (ওমেগা-৩): ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড তৈলাক্ত মাছ এবং আখরোটের মতো খাবারে পাওয়া যায়। এগুলো সরাসরি রক্তে শর্করা কমায় না, তবে একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের সাথে আসা মৃদু প্রদাহ কমানো এর অন্যতম কাজ। প্রোটিন, শাকসবজি এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি দিয়ে তৈরি খাবার পরিশোধিত শর্করা-প্রধান খাবার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং উপকারী।
ম্যাগনেসিয়াম: গ্লুকোজ বিপাকের সঙ্গে জড়িত অনেক প্রক্রিয়ায় ম্যাগনেসিয়ামের ভূমিকা রয়েছে। খাদ্যের মাধ্যমে বেশি ম্যাগনেসিয়াম গ্রহণ করলে টাইপ ২ ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি কমে। শাক-সবজি, বাদাম, বীজ এবং মাছ হলো এর উপকারী খাদ্য উৎস। তবে এনআইএইচ অফিস অফ ডায়েটারি সাপ্লিমেন্টস উল্লেখ করেছে যে, ম্যাগনেসিয়াম সাপ্লিমেন্ট ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের কতটা সাহায্য করে, তা নির্ধারণে আরও গবেষণার প্রয়োজন। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শুধু রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি হলেই সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ শুরু করা উচিত নয়।
আয়রন: এই তালিকায় আয়রন একটি আশ্চর্যজনক সংযোজন। আয়রনের ঘাটতি সরাসরি রক্তে শর্করার মাত্রা কমায় না, কিন্তু এটি আমাদের পরিমাপের পদ্ধতিকে বিকৃত করে। আয়রনের স্বল্পতা ভুলভাবে এইচবিএ১সি (HbA1c) রিডিং বাড়িয়ে দিতে পারে। এর মানে এই নয় যে এইচবিএ১সি কমানোর জন্য আয়রন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত, কারণ অতিরিক্ত আয়রনও শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ











