আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী এবং লেবার পার্টির প্রধানের পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন কিয়ার স্টারমার। নিজ দলের এমপি ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের কয়েক দিনের তীব্র চাপের মুখে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। আজ সোমবার (২২ জুন) ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে স্ত্রী ভিক্টোরিয়াকে পাশে নিয়ে তিনি জনসমক্ষে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তার এই বিদায়ের মাধ্যমে লেবার পার্টিতে নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো এবং আগামী এক দশকে যুক্তরাজ্যের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে দেশটি। নতুন নেতা নির্বাচিত ও ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্টারমার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন।
স্টারমারের পদত্যাগের ঘোষণার পর লেবার পার্টির নতুন নেতা হিসেবে সবচেয়ে শক্তিশালী সম্ভাব্য উত্তরসূরি ভাবা হচ্ছে অ্যান্ডি বার্নহামকে। সম্প্রতি তিনি মেকারফিল্ড আসনের উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ফিরেছেন। এর আগে তিনি গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়রের দায়িত্বে ছিলেন। লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে কি না, তা নিয়ে দলের ভেতর মতভেদ রয়েছে। তবে অন্য সম্ভাব্য প্রার্থী, যেমন- ওয়েস স্ট্রিটিং যদি প্রয়োজনীয় ৮১টি মনোনয়ন সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হন, তবে বার্নহাম সহজেই নেতৃত্ব পেতে পারেন। নতুন প্রধানমন্ত্রীর সামনে যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক সংকট ও জটিল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি মোকাবিলার মতো বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।
কিয়ার স্টারমারের এই পদত্যাগের পেছনে দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ এবং জনপ্রিয়তায় ধস বড় ভূমিকা রেখেছে। শীতকালীন জ্বালানি ভাতা সীমিত করা এবং সামাজিক কল্যাণ কর্মসূচিতে কাটছাঁটের মতো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত তাকে সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয় করে তোলে। এছাড়া, নিরাপত্তা যাচাই নিয়ে প্রশ্ন থাকার পরও ওয়াশিংটনে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত হিসেবে পিটার ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগ দেওয়াকে লেবার পার্টির অনেক নেতা স্টারমারের রাজনৈতিক ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখেছেন। সামরিক ব্যয় নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলির সঙ্গে মতবিরোধ এবং পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে নাইজেল ফারাজের দলের উত্থানের আশঙ্কা লেবার এমপিদের মধ্যে ভীতি তৈরি করেছিল।
গত শুক্রবার পর্যন্ত স্টারমার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা বললেও সাপ্তাহিক ছুটিতে স্ত্রী ও মন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনার পর তিনি মত বদলান। সূত্রের তথ্যমতে, অন্তত ছয়জন ক্যাবিনেট মন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে স্টারমারকে জানিয়ে দেন যে তার সরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে। তার এই বিদায়ের মাধ্যমে একটি নাটকীয় রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। উল্লেখ্য, টনি ব্লেয়ারের ১৯৯৭ সালের ঐতিহাসিক বিজয়ের পর ২০২৪ সালের নির্বাচনে কিয়ার স্টারমারই লেবার পার্টিকে সবচেয়ে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনে দিয়েছিলেন।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






