বিনোদন ডেস্ক
ঢাকা: ৫২ বর্ষা পেরিয়ে আজ ৫৩-তে পা রাখলেন দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার সুপারস্টার এবং তামিলনাড়ুর বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়। দীর্ঘ তিন দশকের ক্যারিয়ারে ৭৮টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করা এই মহাতারকা আজ শুধু সিনেমার নায়কই নন, কোটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া বাস্তব জীবনেরও এক অবিসংবাদিত নেতা। আজ এই বিশেষ দিনে ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সতীর্থদের ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন তিনি। ১৯৭৪ সালের ২২ জুন তামিলনাড়ুর চেন্নাইতে প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা এস এ চন্দ্রশেখর এবং গায়িকা মা শোভা চন্দ্রশেখরের ঘরে জন্ম নেন জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি তীব্র অনুরাগের কারণে পড়াশোনা ছেড়ে বাবার ওপর অভিমান করে বাড়ি থেকে পালিয়েও গিয়েছিলেন তিনি। ১৯৮০-এর দশকে বাবার পরিচালনায় ‘ভেত্রি’, ‘কুদুমবাম’ ও ‘বসন্ত রাগম’-এর মতো সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করলেও ১৯৯২ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে ‘নালাইয়া থিরপু’ সিনেমার মাধ্যমে প্রধান নায়ক হিসেবে অভিষেক হয় তার। যদিও প্রথম ছবিটি বক্স অফিসে চরম ব্যর্থ হয়েছিল এবং সমালোচকদের রূঢ় মন্তব্যের শিকার হতে হয়েছিল তাকে। তবে হাল ছাড়েননি বিজয়; ১৯৯৬ সালে ‘পুভে উনাক্কাগা’ এবং ১৯৯৭ সালে ‘কাধালুক্কু মারিয়াধাই’ তাকে পারিবারিক দর্শক ও তরুণদের মাঝে তুমুল জনপ্রিয় করে তোলে।
২০০০-এর দশকের শুরুতে ‘থিরুমালাই’ (২০০৩) ও ‘ঘিল্লি’ (২০০৪)-এর মতো সিনেমার মাধ্যমে তিনি রোমান্টিক হিরো থেকে মাস অ্যাকশন সুপারস্টারে পরিণত হন। এরপর ‘পোক্কিরি’, ‘থুপ্পাক্কি’, ‘মেরসাল’, ‘মাস্টার’, ‘লিও’ কিংবা ‘গোট’ (GOAT)-এর মতো একের পর এক অল-টাইম ব্লকবাস্টার উপহার দিয়ে তামিল সিনেমার সমার্থক হয়ে ওঠেন তিনি। ১৯৯৪ সালে ‘রসিগান’ সিনেমার পর ভক্তদের দেওয়া ‘ইলাইয়া থালাপতি’ (তরুণ সেনাপতি) উপাধিটি পরিণত বয়সে এসে কেবল ‘থালাপতি’তে রূপ নেয়। তামিলনাড়ু ফিল্ম প্রডিউসার কাউন্সিলের সদস্য জি ধনঞ্জয়নের মতে, বিজয় বিশ্ব চলচ্চিত্র শিল্পের একটি অনন্য বিস্ময়, যিনি রাজনীতিতে আসার বহু আগেই তামিলনাড়ুর প্রতিটি ঘরের অংশ হয়ে উঠেছিলেন।
রূপালি পর্দার এই আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই ২০২৪ সালে ‘তামিলাগা ভেটরি কাজাগাম’ (টিভিকে) নামে নিজের রাজনৈতিক দল গঠন করেন বিজয়। সিনেমার পর্দার মতো রাজনীতির মাঠেও ম্যাজিক দেখান তিনি। দল গঠনের মাত্র দুই বছরের মাথায় তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে তার দল ১০৮টি আসনে জয়লাভ করে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয় এবং তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারের ইতি টেনে জনগণের সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, তিনি শুধু সিনেমার পর্দাতেই নন, বাস্তব জীবনেও তামিলনাড়ুর কোটি মানুষের সত্যিকারের ‘থালাপতি’ বা নেতা।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ



