বাংলাফ্লো প্রতিবেদক
ঢাকা: সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার পলাতক দুই আসামি—সেনাবাহিনীর সাবেক সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান জাহিদ ও সৈনিক শাহিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলে রেড অ্যালার্ট জারির আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৮ জুন) বিকেলে কুমিল্লা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মমিনুল হক এই আদেশ দেন। জানা গেছে, অভিযুক্ত এই দুই আসামি বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন।
কুমিল্লা কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মামুনুর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকার পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম সম্প্রতি পলাতক এই দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও রেড অ্যালার্ট জারির আবেদন করেছিলেন। সোমবার বিকেলে শুনানি শেষে আদালত ওই আবেদন মঞ্জুর করেন।
সন্দেহভাজন আসামির হাজিরা: সোমবার দুপুরে কুমিল্লা কারাগার থেকে এই মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার থাকা সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে আদালতে হাজির করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিয়মিত হাজিরার অংশ হিসেবেই তাকে আদালতে নেওয়া হয়েছিল। এ সময় তার পক্ষে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি। পরে আদালতের হাজতখানা থেকে তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়।
তনু হত্যাকাণ্ডের পটভূমি ও তদন্তের ধারাবাহিকতা:
হত্যাকাণ্ড: ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু। পরদিন সেনানিবাসের পাওয়ার হাউস-সংলগ্ন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মামলা ও তদন্তের পালাবদল: ঘটনার পর নিহতের বাবা ইয়ার হোসেন কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। শুরুতে থানা-পুলিশ, এরপর ডিবি ও সিআইডি দীর্ঘ সময় ধরে তদন্ত করেও হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি।
পিবিআইয়ের তদন্ত: ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে তনু হত্যা মামলার নথি সিআইডি থেকে পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করা হয়। প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেছেন পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






