বাংলাফ্লো প্রতিবেদক
ঢাকা: মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত আসামিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও তা কার্যকর করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের কার্যপ্রণালি (বিধি) সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল থেকে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং প্রসিকিউশন ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। কার্যপ্রণালি সংশোধনের পরই পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানসহ অন্যান্য দণ্ডিত আসামির সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ‘জুলাই শহীদদের’ পরিবারের মাঝে বণ্টন করে দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, দণ্ডিত ব্যক্তিদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের কার্যপ্রণালি সংশোধন করতে হবে। কোন প্রক্রিয়ায় সম্পদ আদায় হবে, আইনে তার সুনির্দিষ্ট বিধান না থাকায় এই সংশোধনী জরুরি। এ লক্ষ্যে একটি সেমিনার আয়োজন করে ট্রাইব্যুনালকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হবে। ট্রাইব্যুনালই কার্যপ্রণালি সংশোধন করবেন। তিনি আরও জানান, ট্রাইব্যুনালের ইতিহাসে এর আগে কোনো দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নজির নেই। এবারই প্রথম এ প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে।
ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলামও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামিদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের আদেশ থাকলেও কোন প্রক্রিয়ায় বা কোন সংস্থার মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করা হবে, আইনে তার কোনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা ছিল না। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল নতুন বিধি করার এই উদ্যোগ নিয়েছে।
গত ১২ আগস্ট চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম ট্রাইব্যুনাল-২-এর কাছে দণ্ডিত আসামির সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও বণ্টনের প্রক্রিয়া বিষয়ে নির্দেশনা চান। শুনানিতে ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী এ ব্যাপারে প্রসিকিউশনকে কাজ করার নির্দেশ দেন। তিনি জানান, ট্রাইব্যুনাল-১, ট্রাইব্যুনাল-২ এবং চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয় যৌথভাবে আলোচনা করে সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও বণ্টনের বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল আইনের কার্যপ্রণালি ঠিক করতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ওই রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি জুলাই শহীদদের ‘উল্লেখযোগ্য ক্ষতিপূরণ’ (Considerable amount of compensation) দিতে সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামা অনুযায়ী, শেখ হাসিনা নিজের নামে ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকার এবং আসাদুজ্জামান খান কামাল কয়েক কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ দেখিয়েছিলেন। তবে এর বাইরেও তাদের নামে থাকা বিপুল পরিমাণ অপ্রদর্শিত সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
কার্যপ্রণালি সংশোধনের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী জানান, বিচারাধীন মামলার চূড়ান্ত যুক্তিতর্কে আদালতের কাছে আবেদন করা হয়েছে, যেন অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পর রায়ে সম্পদ বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হলে তা কার্যকর করার প্রক্রিয়াটিও বিস্তারিতভাবে আদেশে উল্লেখ থাকে।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ












