লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: জীবনসঙ্গী অসুস্থ হলে তার পাশে থাকা জরুরি। তবে শুধু ‘বিশ্রাম নাও’ বলা বা খোঁজ নেওয়ার মধ্যেই কি দায়িত্ব শেষ? নাকি তার কিছু কাজও নিজের কাঁধে তুলে নেওয়া উচিত? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ঘটনা এই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এনেছে।
সম্প্রতি ভারতের ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী পূর্ণা শ্রীবাস্তব একটি ভিডিও শেয়ার করেন। সেখানে দেখা যায়, এক নারী অসুস্থ অবস্থায় তাঁর কর্মস্থলে কাজ করছেন এবং তার স্বামীও সঙ্গে এসে তাকে রান্নাঘরের কিছু কাজে সাহায্য করছেন। ভিডিওটি প্রকাশের পর অনেকেই স্বামীর উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তাদের মতে, সঙ্গী অসুস্থ হলে শুধু সহানুভূতি দেখানো নয়, প্রয়োজনের সময় বাস্তব কাজে পাশে দাঁড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ। তবে ঘটনাটি নিয়ে ভিন্ন মতও দেখা যায়। কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, অন্যের বাড়িতে কাজ করার সময় স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে এসে কাজে যুক্ত করা কতটা উপযুক্ত। ফলে একটি ছোট ঘটনা থেকেই শুরু হয় সম্পর্কের দায়িত্ব, ব্যক্তিগত সীমারেখা ও পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা।
ভালোবাসা কি শুধু কথায় প্রকাশ পায়?
সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় দীর্ঘদিন ধরেই পারস্পরিক সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে ধরা হয়। ২০২৬ সালে ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণাতেও দম্পতিদের ঘরের কাজ কীভাবে ভাগ হচ্ছে এবং সম্পর্কের মানের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ঘরের কাজ ভাগাভাগি নিয়ে সঙ্গীরা সন্তুষ্ট থাকলে সম্পর্কের সন্তুষ্টির সঙ্গেও তার ইতিবাচক সম্পর্ক থাকে। অর্থাৎ, একজন অসুস্থ হলে অন্যজন কিছু দায়িত্ব সাময়িকভাবে ভাগ করে নেওয়া শুধু কাজ কমানোর বিষয় নয়। এতে সঙ্গী বুঝতে পারেন, কঠিন সময়ে তাঁকে একা সবকিছু সামলাতে হচ্ছে না।
ছোট কিছু কাজে সাহায্য
ধরা যাক, স্ত্রী অসুস্থ। প্রতিদিন তিনিই রান্না করেন। সেদিন স্বামী রান্নার দায়িত্ব নিলেন। অথবা স্বামী অসুস্থ হলে স্ত্রী তার অফিসের প্রয়োজনীয় কিছু কাজ গুছিয়ে দিলেন। আবার দুজনই যদি চাকরি করেন এবং একজন অসুস্থ হয়ে পড়েন, অন্যজন সেদিন বাজার করা, খাবার আনা কিংবা ঘরের জরুরি কাজগুলো সামলে নিতে পারেন। এখানে বিষয়টি ‘কে বেশি কাজ করছেন’—এমন প্রতিযোগিতা নয়। বরং পরিস্থিতি অনুযায়ী কে কতটা দায়িত্ব নিতে পারছেন, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
সব দায়িত্ব সমানভাবে ভাগ করতেই হবে?
এমনটা নয়। সম্পর্কের ক্ষেত্রে দায়িত্ব ভাগ করার কোনো একক নিয়ম নেই। কারও কাজের সময় বেশি হতে পারে, কারও শারীরিক সক্ষমতা কম হতে পারে, আবার পরিবারের পরিস্থিতিও আলাদা হতে পারে। গবেষণাতেও দেখা গেছে, ঘরের কাজের ক্ষেত্রে শুধু সময়ের হিসাব নয়, কাজের ভাগাভাগি নিয়ে দুজনের সন্তুষ্টি ও ন্যায্যতার অনুভূতিও গুরুত্বপূর্ণ। তাই একজন অসুস্থ হলে সাময়িকভাবে অন্যজন বেশি দায়িত্ব নিতেই পারেন। সুস্থ হওয়ার পর আবার আগের দায়িত্ব ভাগাভাগিতে ফিরে আসা সম্ভব।
‘আমি আছি’ কথাটির বাস্তব অর্থ
অসুস্থ সঙ্গীকে ‘চিন্তা করো না, আমি আছি’ বলা অবশ্যই ভালো। কিন্তু সেই কথার সঙ্গে যদি বাস্তব সহযোগিতাও থাকে, তাহলে তার অর্থ আরও স্পষ্ট হয়। যেমন—সঙ্গীকে বিশ্রাম নিতে দিয়ে নিজে খাবার তৈরি করা, প্রয়োজনীয় জিনিস এনে দেওয়া, ঘরের কাজ সামলে দেওয়া কিংবা পরিবারের অন্য সদস্যদের দায়িত্ব নেওয়া। মনোবিজ্ঞানভিত্তিক সম্পর্কের আলোচনায় দুজনের প্রত্যাশা ও দায়িত্ব নিয়ে আগে থেকেই পরিষ্কার বোঝাপড়া থাকলে দৈনন্দিন চাপ কমানো সহজ হতে পারে।
সাহায্য মানেই সবকিছু নিজের হাতে নেওয়া নয়
সঙ্গী অসুস্থ হলে তাকে সাহায্য করার অর্থ তার মতামত উপেক্ষা করা নয়। তিনি কী ধরনের সাহায্য চান, সেটিও জানা দরকার। কেউ হয়তো চান তাকে পুরোপুরি বিশ্রাম নিতে দেওয়া হোক। আবার কেউ হয়তো হালকা কিছু কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তাই সাহায্য করার আগে তাঁর প্রয়োজনটা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ।
সঙ্গী অসুস্থ হলে পাশে থাকা শুধু একটি ভালোবাসার কথা নয়, এটি অনেক সময় একটি আচরণও হতে পারে। এক গ্লাস পানি এগিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে এক দিনের রান্না বা বাজারের দায়িত্ব নেওয়া—ছোট কাজও তখন বড় হয়ে উঠতে পারে। তাই শুধু পাশে থাকা নয়, পরিস্থিতি অনুযায়ী দায়িত্বও ভাগ করে নেওয়া ভালো। তবে সেই দায়িত্ব চাপিয়ে নয়, বরং সঙ্গীর প্রয়োজন ও দুজনের বোঝাপড়ার ভিত্তিতে ভাগ করে নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ












