আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে ওমানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। এই সম্ভাব্য চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজের ওপর নিয়ন্ত্রণ পেতে পারে তেহরান। তবে এখনো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অমীমাংসিত রয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) এক জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র এবং দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটি চূড়ান্ত হলে সাম্প্রতিক যুদ্ধের পর এটি ইরানের জন্য অন্যতম বড় একটি কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে একটি চুক্তি খুব কাছাকাছি রয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি বাণিজ্যপথের প্রবেশাধিকার কোনোভাবেই ইরানের নিয়ন্ত্রণে দেওয়ার বিষয়ে তারা সম্মত হবেন না। যদি ওমান ও ইরানের মধ্যকার এই চুক্তিটি কার্যকর হয়, তবে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের শুরু করা যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্য অনেকটাই তেহরানের অনুকূলে চলে আসবে। উল্লেখ্য, যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালি সব দেশের জাহাজের জন্য কোনো ফি ছাড়াই উন্মুক্ত ছিল। বর্তমানে আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে ইরান ও ওমান প্রণালিটির উত্তর ও দক্ষিণ অংশ নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। চুক্তি হলে ভবিষ্যতে উপসাগরে প্রবেশ ও বের হওয়া—উভয় দিকের যাত্রাই ইরানের আঞ্চলিক জলসীমা দিয়ে পরিচালিত হতে পারে।
এরই মধ্যে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে হামলা চালায়, তবে পুরো অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে পাল্টা আঘাত হানা হবে। রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা পাঁচটি সূত্র জানায়, সামরিক পদক্ষেপের মূল্য বাড়িয়ে তুলতেই ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ আঞ্চলিক মিত্রদের এই বার্তা দিয়েছে তেহরান। একটি উপসাগরীয় সূত্রও নিশ্চিত করেছে যে, ইরানের বার্তাটি ছিল একেবারেই স্পষ্ট—যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কোনো অবকাঠামোতে হামলা করলে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনা ও অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুতে ভয়াবহ পাল্টা হামলা চালানো হবে। ইতোমধ্যে অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর পাশাপাশি অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী বাণিজ্যিক জাহাজেও হামলা চালিয়েছে ইরান। উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছেন বলে জানা গেছে।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ









