আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: দীর্ঘ পাঁচ মাসের শ্বাসরুদ্ধকর স্নায়ুযুদ্ধ ও সামরিক উত্তেজনার পর অবশেষে শান্তির পথে হাঁটতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। চরম বৈরী এই দুই দেশের মধ্যকার সংঘাত অবসানে একটি শান্তিচুক্তির চূড়ান্ত খসড়া এরই মধ্যে প্রস্তুত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। সব ঠিক থাকলে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে এই ঐতিহাসিক চুক্তিতে সই করতে পারে দুই দেশ।
শনিবার এক বিশেষ বিবৃতিতে শেহবাজ শরিফ জানান, বিবদমান দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তির মূল বিষয়গুলো নিয়ে শক্ত ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন কেবল আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের অপেক্ষা। ভার্চুয়াল বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে এই প্রাথমিক ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পর আগামী সপ্তাহেই কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকে বসবে ওয়াশিংটন ও তেহরান। সেখানে চুক্তি বাস্তবায়নের মাঠপর্যায়ের খুঁটিনাটি দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে জানান তিনি।
গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে পাল্টাপাল্টি হামলা আর হুংকার চলছিল, তাতে রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল পুরো বিশ্ব। এই সংঘাতের সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও, দেখা দিয়েছিল চরম অস্থিরতা। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাশা, এই চুক্তির মধ্য দিয়ে কেবল সংঘাতেরই অবসান ঘটবে না, বরং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধংদেহী আবহ শান্ত হয়ে নতুন এক কূটনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হবে।
তবে এখন পর্যন্ত এই চুক্তির ভেতরের শর্ত বা রূপরেখা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্র বা ইরানের পক্ষ থেকেও সম্ভাব্য এই চুক্তির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পূর্ণাঙ্গ বিবৃতি এখনও আসেনি। আপাতত গোটা বিশ্বের নজর এখন আগামী ২৪ ঘণ্টার দিকে—সত্যিই কি চিরশত্রু এই দুই দেশের মধ্যে স্বস্তির কোনো অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে?
বাংলাফ্লো/এফআইআর






