লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: শীতের ঠান্ডা বাতাস শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের মন এমন খাবারের দিকে টানে যা আরামদায়ক এবং শরীরকে উষ্ণ রাখে। পুষ্টিবিদরা বলছেন, শীতের বিকেলে ভাজাভুজি বা চিনিযুক্ত খাবারের পরিবর্তে এক মুঠো বাদাম হতে পারে সবচেয়ে আদর্শ নাস্তা। প্রোটিন ও হেলদি ফ্যাট সমৃদ্ধ এই খাবারটি শীতকালে শরীরকে ভেতর থেকে উষ্ণ রাখার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও দারুণ কার্যকর।
বাদামের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা: বাদামকে অন্যতম পুষ্টিকর খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এতে রয়েছে প্রোটিন, হেলদি ফ্যাট, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন ই এবং রেসভেরাট্রলের মতো শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।
শরীর উষ্ণ রাখে: বাদামে থাকা মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং প্রোটিন শীতের দিনে শরীরে উষ্ণতা তৈরি করে এবং শক্তির মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়: এতে থাকা ‘আরজিনিন’ নামক অ্যামাইনো অ্যাসিড রক্ত প্রবাহ সহজ করে এবং হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: শীতে শরীরের বিপাক ক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। বাদামে থাকা জিংক ও ভিটামিন ই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং শরীরকে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে।
ওজন নিয়ন্ত্রণ ও ত্বকের যত্ন: অনেকেই ভাবেন বাদাম খেলে ওজন বাড়ে, কিন্তু পরিমিত পরিমাণে বাদাম খেলে উল্টো ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। এর ফাইবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে, ফলে দেরিতে বা অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে। এ ছাড়া, রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতেও এটি সহায়ক।
শীতের শুষ্ক আবহাওয়ায় ত্বক ও চুলের জন্য বাদাম প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজারের কাজ করে। এর ভিটামিন ই এবং বায়োটিন ত্বককে ভেতর থেকে পুষ্ট করে এবং চুলের গোড়া মজবুত করে ভাঙা রোধ করে।
কীভাবে খাবেন: বিশেষজ্ঞরা লবণ ছাড়া বা হালকা ভাজা (ড্রাই রোস্টেড) বাদাম খাওয়ার পরামর্শ দেন। অতিরিক্ত তেল বা মসলাযুক্ত বাদাম এড়িয়ে চলাই ভালো। পুষ্টি শোষণের জন্য কাঁচা বাদাম কয়েক ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে খাওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া, গুড়ের সঙ্গে মিশিয়ে পিনাট বার তৈরি করেও খাওয়া যায়, যা আয়রন ও প্রোটিনের এক দারুণ উৎস। প্রতিদিন ২৫-৩০ গ্রাম বাদামই যথেষ্ট।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






