লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: পিরিয়ডের সময় ব্যথা কারও কারও জন্য হালকা হতে পারে, আবার অনেকের জন্য তা তীব্র আকার ধারণ করে। এই ব্যথা মোকাবিলার বিভিন্ন উপায় রয়েছে, গরম সেঁক থেকে শুরু করে ব্যথানাশক ওষুধ পর্যন্ত অনেক কিছুই কার্যকরী। তবে পিরিয়ডের ব্যথা কমানোর একটি সহজ ও ঘরোয়া উপায় হিসেবে আদা চা-কেও বেশ উপকারী বলা হয়ে থাকে। এই দাবির সত্যতা নিয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানেও ইতিবাচক মতামত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আদা চা সত্যিই পিরিয়ডের ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে। আদায় ‘জিঞ্জেরল’ নামক বায়োঅ্যাক্টিভ যৌগ রয়েছে, যার প্রদাহ-বিরোধী এবং ব্যথা উপশমকারী বৈশিষ্ট্য আছে। মাসিকের ব্যথা মূলত অতিরিক্ত প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনের কারণে হয়, যা জরায়ুর সংকোচন এবং প্রদাহ সৃষ্টি করে। আদা এই প্রদাহ সৃষ্টিকারী রাসায়নিকগুলো কমিয়ে দিয়ে ব্যথা উপশমে ভূমিকা রাখে। ক্লিনিক্যাল পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কিছু নারীর ক্ষেত্রে আদা হালকা ব্যথানাশকের মতো কাজ করে। গরম আদা চা রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে এবং আরামদায়ক অনুভূতি দেয়, যা জরায়ুর পেশি শিথিল করতে সাহায্য করে। পিরিয়ডের সময় দিনে ১-২ বার এক কাপ আদা চা পান করা বেশ উপকারী হতে পারে।
পিরিয়ডের তীব্র ব্যথা নিরাময়ে ঘরোয়া উপায়ের পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। প্রেসক্রিপশন ছাড়া কেনা যায় এমন ব্যথানাশক পিরিয়ড শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রহণ করলে ব্যথা নিয়ন্ত্রণে থাকে। এছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শে হরমোনজনিত জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবন করা যেতে পারে, যা ব্যথার তীব্রতা কমায়। তবে ব্যথা যদি এন্ডোমেট্রিওসিস বা ফাইব্রয়েডের মতো কোনো রোগের কারণে হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সার্জারি বা উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
আদার যেমন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, তেমনি কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। আদা বমি বমি ভাব দূর করে, গর্ভাবস্থায় মর্নিং সিকনেস কমায়, পেট ফাঁপা রোধ করে এবং রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বা শ্বাসযন্ত্রের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তবে জন হপকিন্স মেডিসিনের তথ্যমতে, উচ্চ মাত্রায় আদা গ্রহণ করলে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ (যেমন ওয়ারফারিন বা অ্যাসপিরিন) নিচ্ছেন, তাদের এটি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া অতিরিক্ত আদা রক্তে শর্করার মাত্রা কমিয়ে দেয় কি না, তা নিয়েও চিকিৎসাবিজ্ঞানে গবেষণা চলছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর




