লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: ব্যস্ততার কারণে অনেক সময় বাজার থেকে এনে ডিম ফ্রিজে রাখতে ভুলে যাই আমরা। পরে মনে হলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে—এই ডিমগুলো কি এখনো খাওয়া যাবে? স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, বিষয়টি মোটেও হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়, কারণ ভুলভাবে সংরক্ষণ করা ডিম থেকে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ডিম দুই ঘণ্টার বেশি বাইরে রাখা নিরাপদ নয়। আর আবহাওয়া যদি অতিরিক্ত গরম হয়, বিশেষ করে তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে, মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই ডিম নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এই সময়ের মধ্যে ডিমের ভেতরে দ্রুত ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে, বিশেষ করে ‘সালমোনেলা’ সংক্রমণের প্রবল আশঙ্কা থাকে। গরম ও আর্দ্র পরিবেশে এই ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
ডিমের খোসায় ‘কিউটিকল’ নামের একটি প্রাকৃতিক স্তর থাকে, যা ডিমকে বাইরের জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে। অনেক সময় পরিষ্কার করার জন্য ডিম ধোয়া হলে এই সুরক্ষাস্তর নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণেই বাজার থেকে আনার পর না ধুয়ে সরাসরি ফ্রিজে সংরক্ষণ করা সবচেয়ে নিরাপদ। কার্টনের ভেতরে রাখলে ডিমের আর্দ্রতা ঠিক থাকে। ব্যবহারের ঠিক আগমুহূর্ত ছাড়া ডিম ধোয়া উচিত নয়। বাংলাদেশের মতো উষ্ণ আবহাওয়ার দেশে ফ্রিজে সংরক্ষণ করাই ডিম ভালো রাখার সেরা পদ্ধতি।
একটি পাত্রে পানি নিয়ে তাতে ডিম ছেড়ে দিন। ডিম ডুবে গেলে তা ভালো বা সতেজ আছে। আর ভেসে উঠলে বুঝতে হবে তা নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
ডিম ভাঙার পর যদি কটু বা দুর্গন্ধ আসে, অথবা সাদা অংশ অতিরিক্ত পাতলা ও অস্বাভাবিক দেখায়, তবে সেই ডিম কোনোভাবেই খাওয়া উচিত নয়।
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ডিম একটি অপরিহার্য উপাদান হলেও, সংরক্ষণে সামান্য অসতর্কতা বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি ডেকে আনতে পারে। তাই বাইরে রাখা ডিম ব্যবহারের আগে এর অবস্থা ও সময়ের দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখা জরুরি।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






