আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ঝাড়খণ্ডের সেরাইকেলা-খারসাওয়ান জেলায় চরম নিরাপত্তা ও সুরক্ষার আশ্রয়স্থল থানা ভবনের ভেতরেই এক পুলিশ কনস্টেবলের হাতে এক নারী পাশবিক ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। অভিযোগ জানাতে এসে খোদ পুলিশের হাতেই এমন নির্যাতনের ঘটনায় গোটা রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। অভিযুক্ত কনস্টেবলকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে পুলিশ জানায়, গত ২৯ অক্টোবর পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর শারীরিক নির্যাতনের ভয়ে বাড়ি ছেড়ে এক প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নেন ওই নারী। সেখান থেকে পুলিশের টহল দলকে ফোন করলে তাকে উদ্ধার করে সেরাইকেলার গামহারিয়া থানায় নিয়ে আসা হয়। রাতে তাকে বিশ্রামের জন্য থানার ভেতরেই একটি কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে অবস্থানকালে থানার ওয়্যারলেস অপারেটর হিসেবে কর্মরত অভিযুক্ত কনস্টেবল সুযোগ বুঝে ওই কক্ষে প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণ করে।
ভুক্তভোগী নারীর সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পর সেরাইকেলার সিনিয়র পুলিশ সুপার (এসপি) মনোজ স্বর্গিয়ারীর নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সাব-ডিভিশনাল পুলিশ অফিসার (এসডিপিও) অনুভব ভরদ্বাজের প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর অভিযুক্ত কনস্টেবলকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এছাড়া দায়িত্বে অবহেলা ও চরম শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে গামহারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, অপরাধের সময় অভিযুক্তের পরিহিত পোশাক আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে এবং পরীক্ষার জন্য রাঁচির ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হচ্ছে। এদিকে থানা ভবনের ভেতরে এমন বর্বরোচিত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাজ্যের বিরোধী দল বিজেপি বলেছে, পুলিশ প্রশাসনের ওপর শাসকগোষ্ঠীর কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকায় আইনশৃঙ্খলা চরমভাবে ভেঙে পড়েছে।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ









