আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চুক্তি-পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার জন্য পূর্বনির্ধারিত সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। আজ শুক্রবার এই আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ছিল। হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রস্তুতির জটিলতা এবং ব্যবস্থাপনার কারণেই বর্তমান পরিস্থিতিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেনেভা রওনা হচ্ছেন না। তবে সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আলোচনা আপাতত স্থগিত হলেও চূড়ান্ত চুক্তির প্রস্তুতি পুরোদমেই চলছে।
গত বুধবার রাতে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই ফ্রান্স থেকে ভার্চ্যুয়ালি সমঝোতা স্মারকে সই করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তেহরান থেকে যুক্ত হয়ে সই করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। এর ফলে আজ শুক্রবার জেনেভায় প্রাথমিক চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা বাতিল করে সরাসরি চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনা শুরুর কথা ছিল। ৬০ দিনব্যাপী এই আলোচনায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং জব্দ করা অর্থ ছাড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত।
চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও এর স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই শর্ত ভঙ্গ করলে ইরানে হামলার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। অন্যদিকে সমঝোতার বিপরীতে গিয়ে লেবাননে অব্যাহতভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। তেহরানের ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেসের অধ্যাপক মোস্তফা কোসচেশম সতর্ক করে বলেছেন, ইসরায়েল হামলা অব্যাহত রাখলে ইরান চুক্তি থেকে সরে যেতে পারে এবং ইসরায়েলকে সামলানোর মূল দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই বর্তায়।
তবে চুক্তির পর কিছু ইতিবাচক প্রভাবও অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে ফ্রান্স ও ইরানের পতাকাবাহী বেশ কয়েকটি জাহাজ চলাচল শুরু করেছে এবং বিশ্ববাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম কমে ৭৯ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই ভয়াবহ যুদ্ধে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ এ পর্যন্ত সাত হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






