আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি সুপারসনিক (শব্দের চেয়ে বেশি গতিবেগ সম্পন্ন) ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ‘ব্রহ্মস’ এবার হাইপারসনিক (শব্দের চেয়ে পাঁচগুণ বা তারও বেশি দ্রুতগতির) স্তরে উন্নীত হতে চলেছে। বৃহস্পতিবার ভারতীয় দৈনিক ‘দ্য ইকনমিক টাইমস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত ডেনিস অ্যালিপভ এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, ব্রহ্মসের এই নতুন সংস্করণ আকারে কিছুটা ছোট এবং ওজনে হালকা হলেও এর বিধ্বংসী ক্ষমতায় কোনো ঘাটতি থাকবে না; বরং এটি ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর বহুমাত্রিক আঘাত হানার সক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর তিন শাখার (স্থল, নৌ এবং বিমানবাহিনী) জন্য বাড়তি পাল্লা ও গতির ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের বিষয়টিতে বর্তমানে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। রুশ সেনাবাহিনী ইতিমধ্যেই নতুন হাইপারসনিক ‘ব্রহ্মস মার্ক-২’ ব্যবহার শুরু করেছে এবং মস্কোর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এটি তৈরি করতে চায় নয়াদিল্লিও। ভারতীয় সেনার হাতে থাকা বর্তমান ‘ব্রহ্মস মার্ক-১’-এর পাল্লা ৪৫০ কিলোমিটার, অন্যদিকে ‘ব্রহ্মস মার্ক-২’ ৮০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্বে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। এর মূল বৈশিষ্ট্য হলো—শত্রুপক্ষের ‘আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা’কে প্রস্তুত হওয়ার ন্যূনতম সুযোগ না দিয়েই দ্রুত আঘাত হানা। রুশ রাষ্ট্রদূত নিশ্চিত করেছেন যে, এই হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের যৌথ উৎপাদনের বিষয়ে নয়াদিল্লিকে সব ধরনের প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে মস্কো।
উল্লেখ্য, উত্তর-পূর্ব ভারতের ব্রহ্মপু্ত্র এবং রাশিয়ার মস্কোভা নদীর নাম মিলিয়ে ‘ব্রহ্মস’ নামকরণ করা হয়েছে। ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা (ডিআরডিও) এবং রুশ প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ‘এনপিও মাশিনোস্ত্রোয়েবিয়া’-এর যৌথ উদ্যোগ ‘ব্রহ্মস অ্যারোস্পেস লিমিটেড’ এটি উৎপাদন করে। বর্তমানে ব্যবহৃত ম্যাক-৩ গতির সুপারসনিক ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রটি স্থলভূমির পাশাপাশি যুদ্ধজাহাজ, সুখোই-৩০ যুদ্ধবিমান এবং ডুবোজাহাজ থেকে নিক্ষেপ করা যায়। এটি প্রথাগত বিস্ফোরকের পাশাপাশি পরমাণু অস্ত্র বহনেও সক্ষম।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






