আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ হরমুজগানের অন্তর্গত সিরিক দ্বীপে মার্কিন বাহিনীর হামলার এক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা আঘাত হেনেছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। সোমবার (১ জুন) এক লিখিত বিবৃতিতে আইআরজিসির পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, সিরিক দ্বীপের যোগাযোগ টাওয়ারে মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে যে মার্কিন ঘাঁটি থেকে হামলা চালানো হয়েছিল, সরাসরি সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের থাকা ১৯টি ঘাঁটির মধ্যে ঠিক কোনটিতে এই হামলা হয়েছে, তা বিবৃতিতে নির্দিষ্ট করা হয়নি।
এদিকে, সোমবার সকালে কুয়েতের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, ভোরের দিকে ইরান থেকে আসা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার আগেই তাদের বিমান বাহিনী তা আটকে দিয়ে ধ্বংস করেছে। এই হামলার দায় কেউ স্বীকার না করলেও ধারণা করা হচ্ছে, ইরাকের কোনো শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী এটি চালিয়ে থাকতে পারে। এর আগে গতকাল সিরিক দ্বীপের পাশাপাশি পারস্য উপসাগরের দুই ইরানি দ্বীপ গোরুক এবং কেশমের রাডার ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রেও বোমাবর্ষণ করেছিল মার্কিন বিমান বাহিনী।
ইরানের পরমাণু প্রকল্প ইস্যুতে দীর্ঘ টানাপোড়েনের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সামরিক অভিযান শেষে ৭ এপ্রিল ইরানে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। চলমান এই যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন পতাকাবাহী ট্যাংকারে ইরানের ড্রোন হামলা এবং এর জেরে বন্দর আব্বাসে মার্কিন বোমাবর্ষণের মতো ঘটনা ঘটে। এর জবাবে গত ২৮ মে কুয়েতে মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালায় আইআরজিসি, যার তিন দিনের মাথায় আবারও সেখানে আক্রমণের ঘটনা ঘটল। দুই দেশের মধ্যে যখন একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের আলোচনা ফের গতিশীল হয়েছে, ঠিক তখনই এসব পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






