আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাত্রা শুরুর মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে সৌদি আরবের তেলবাহী দুটি বিশাল সুপারট্যাংকারে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা কেপলার ও ম্যারিস্কস সোমবার (৩১ আগস্ট) গভীর রাতে ওই দুই ট্যাংকারে হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ম্যারিস্কস জানিয়েছে, প্রায় একই সময়ে ঘটা এই দুটি ঘটনা ওমানের জলসীমায় সৃষ্ট নিরাপত্তা হুমকি পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। কেপলারের তথ্যমতে, গত সপ্তাহে ট্যাংকার দুটি সৌদি আরবের জুয়াইমাহ টার্মিনাল থেকে ২০ লাখ ব্যারেল করে অপরিশোধিত তেল লোড করেছিল। গত আগস্টে প্রণালির অভ্যন্তরীণ এলাকা থেকে পুনরায় তেল লোড ও বিক্রি কার্যক্রম শুরু করেছিল সৌদি আরামকো।
জাহাজ চলাচলে সর্বশেষ এই হামলার ঘটনায় ওমানের খাসাব থেকে প্রায় ১৬.৬ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে সোমবার ভোরের দিকে অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতের শিকার হয় সৌদি পতাকাবাহী ‘সিদর’ নামের সুবিশাল অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ (ভিএলসিসি)। ম্যারিস্কস জানায়, এর মাত্র কয়েক মিনিট পর খাসাব থেকে আনুমানিক ১৭ নটিক্যাল মাইল পূর্বে লিবিয়ার পতাকাবাহী ‘সেনেগাল প্রসপারিটি’ নামের অপর একটি ভিএলসিসি তিনটি অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে উভয় জাহাজে থাকা সব ক্রু নিরাপদ আছেন। ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স এজেন্সিও (ইউকেএমটিও) একই স্থানে হরমুজ প্রণালি ছেড়ে যাওয়ার সময় একটি তেলের ট্যাংকারে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার কথা জানিয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের একের পর এক অবরোধ ও কড়াকড়ির কারণে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি রপ্তানি ব্যাপক হ্রাস পেয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের ওপর একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে উভয়পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি উত্তেজনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন করে হামলার হুমকির জেরে মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে তেলের দামও বেড়ে যায়।
এর আগে মঙ্গলবার সকালের দিকে ইরানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছিল, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ করিডোর অতিক্রম করার সময় সৌদি আরবের একটি তেল ট্যাংকারকে গতিরোধ ও আটক করা হয়েছে।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ












