বাংলাফ্লো প্রতিবেদক
ঢাকা: জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির প্রভাবশালী নেত্রী ও নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে এক দীর্ঘ ও খোলামেলা বিবৃতির মাধ্যমে তিনি দল ছাড়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে দলটির নীতিগত বিচ্যুতি, জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী জোট এবং নারীর অধিকার অস্বীকার নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি।
বিবৃতিতে সামান্তা শারমিন লেখেন, প্রায় এক বছর আগে এনসিপির জোট গঠনের প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছিলেন যে, জামায়াতে ইসলামী নীতিগত বা কৌশলগত কোনো বিচারেই মিত্র হওয়ার যোগ্য নয় এবং তাদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার জন্য এনসিপিকে চড়া মূল্য দিতে হবে। গত ১১ মাস ধরে দলের অভ্যন্তরে নীতিগত লড়াই চালিয়েও কোনো গণতান্ত্রিক সমাধান না মেলায় তিনি পদত্যাগের পথ বেছে নিয়েছেন। তার মতে, প্রতিষ্ঠাকালীন মূল্যবোধে ফিরে আসার আন্তরিকতা এনসিপি পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেছে।
এনসিপির সংস্কারের রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হতে চাইলে এনসিপিকে সাংবিধানিক, আইনি ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার করতে হতো। কিন্তু জামায়াত প্রকৃতপক্ষে সংস্কারের রাজনীতি বিশ্বাস করে না; বরং ২৪-এর গণআকাঙ্ক্ষাকে ব্যবহার করে নিজেদের ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রপ্রকল্প বাস্তবায়নই তাদের উদ্দেশ্য। এনসিপি যখন এমন শক্তিকে সংস্কারের বন্ধু বানিয়েছে, তখন সচেতন সাধারণ মানুষও তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।
নির্বাচনী কৌশল নিয়ে এনসিপি নেতৃত্বের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনটি পুরোনো বন্দোবস্ত বদলের বড় একটি রাজনৈতিক নির্বাচন হতে পারত। কিন্তু এনসিপি ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিয়ে ‘বড় দলের লেজুড়’ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে নতুন রাজনীতির অপার সম্ভাবনাকে গলাটিপে হত্যা করেছে। এমনকি শহীদ ওসমান হাদীর আত্মত্যাগকে অতি পুরোনো কৌশল ‘বড় দলের সঙ্গে জোট’ করার অজুহাত হিসেবে অপব্যবহার করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে নারীর ভূমিকা ও এনসিপির অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, নারীরা অভ্যুত্থানের সামনের সারিতে বুক চিতিয়ে লড়লেও বিজয়ের পর তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের বাইরে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এনসিপি নারীদের ক্ষমতায়নের বদলে অতি-ডানপন্থী রক্ষণশীল শক্তির অনুসারী হয়ে পুরুষতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছে। নারীদের শুধু মিছিলের সুরক্ষাবলয় হিসেবে ব্যবহার করে বিজয়ের পর ন্যায্য হিস্যা অস্বীকার করা কোনোভাবেই বৈষম্যহীন রাজনীতি হতে পারে না।
উল্লেখ্য, গত ২৩ অক্টোবর এনসিপির নতুন কমিটি ঘোষণার পর থেকেই সামান্তা শারমিনকে শীর্ষ পর্যায় থেকে নামিয়ে শুধু যুগ্ম আহ্বায়ক করায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্ষোভ ও পদাবনতির গুঞ্জন চলছিল। অবশেষে সেই বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে দল ছাড়ার ঘোষণা দিলেন তিনি।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ











